সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরি তিনটি অতিবৃহৎ ক্রুড ক্যারিয়ার বা অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার নির্মাণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ১শ ৬৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মোট আর্থিক পরিমাণ ৪৬ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা দেশের অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ খাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি কোম্পানির বহরকে আরও প্রশস্ত করবে।
সৌদি এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক ফাইলিংয়ে জানানো হয়েছে, প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা হবে ৩ লাখ ২০ হাজার ডেডওয়েট টন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন দফায় এসব জাহাজ হস্তান্তর করা হবে।
বাহরির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নগদ তহবিল এবং ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করে এই চুক্তির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হবে। মূলত কোম্পানির জাহাজ বহর আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে এই বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে।
জাহাজগুলো হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর এবং যখন এগুলো বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করবে, কেবল তখনই এর আর্থিক প্রভাব কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে দৃশ্যমান হবে। এই নতুন অর্ডারের ফলে সৌদি আরবে নির্মিত জাহাজের জন্য বাহরির মোট অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল নয়টিতে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার এবং তিনটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকার।
এর আগে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে বাহরির সই হওয়া একটি চুক্তির আর্থিক পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল। ওই চুক্তির আওতায় ছয়টি আল্ট্রামাক্স ড্রাই বাল্ক ভেসেল নির্মিত হচ্ছে, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৬২ হাজার ৮২৩ ডেডওয়েট টন। আগামী ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এসব জাহাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্বল্প অবকাঠামোযুক্ত বন্দরগুলোতেও সেবা দেওয়ার উপযোগী করে ড্রাই বাল্ক জাহাজগুলো নকশা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহরি নতুন নতুন বাজার এবং বাণিজ্য রুটে নিজেদের কার্যক্রম সফলভাবে বিস্তৃত করতে পারবে।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রিজ হলো একটি সংশ্লিষ্ট পক্ষ, কারণ এই প্রতিষ্ঠানের মূলধনের ১৯ দশমিক ৯ শতাংশের মালিকানা রয়েছে বাহরির হাতে। এছাড়া বাহরির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পর্ষদ সদস্য আহমেদ আলী আল-সুবায়ে এই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে ফাইলিংয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রিসের ক্যাপিটাল মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশনের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নয়টি অতিবৃহৎ ক্রুড ক্যারিয়ার কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরপরই নতুন এই ট্যাংকার অর্ডারের ঘোষণা এলো। দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্মিত জাহাজগুলো নিয়ে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পাঁচটি কেমিক্যাল ট্যাংকার ক্রয় এবং একটি পুরনো ক্রুড ক্যারিয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাহরি তাদের জাহাজ বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত রেখেছে। গত জুনের শেষ নাগাদ তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭টিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ইজারার অধীনে ছিল আরও দুটি জাহাজ।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ২৭৫ কোটি সৌদি রিয়াল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫শ ৭৪ শতাংশ বেশি। মূলত অপরিশোধিত তেল পরিবহন ব্যবসার শক্তিশালী অবস্থান এবং গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ভাড়ার উচ্চ হার ও চার্টার বৃদ্ধির কারণে এই মুনাফা অর্জিত হয়েছে বলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।
