কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় কারাবন্দী এক আদিবাসী নারীকে বিছানার সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। একটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার এই অমানবিক ঘটনা প্রকাশ করা হয়।
লেবার সরকার ও কোয়ালিশন জোট মিলে কারাবন্দী নারীদের প্রসবকালে হাতকড়া পরানো নিষিদ্ধ করার একটি বিল আটকে দেওয়ার কয়েক দিন পরই এই ঘটনা ঘটে।
বন্দী নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিস্টার্স ইনসাইডের প্রধান নির্বাহী ডেবি কিলরয় জানান, ওই আদিবাসী নারী সিজারের মাধ্যমে একটি অকালজাত সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান প্রসবের পরও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন দফায় দফায় তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়।
কারাগারের কর্মীরা বারবার অনুরোধের পরও হাতকড়া খুলতে অস্বীকার করায় প্রসূতি নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানান কিলরয়। তিনি উল্লেখ করেন, হাতকড়া খুলে নেওয়ার আগে ওই নারী চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং হাতকড়া লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল।
কিলরয়ের মতে, ওই নবজাতকের মা কোনোভাবেই হিংস্র ছিলেন না এবং তার পালিয়ে যাওয়ারও কোনো আশঙ্কা ছিল না। কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আরও কত নারী ও শিশুকে এমন মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কুইন্সল্যান্ড সংশোধনমূলক সেবা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। জননিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে গর্ভী বন্দীদের ক্ষেত্রে কেবল অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে শেষ বিকল্প হিসেবে হাতকড়া ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেন ওই মুখপাত্র।
এর আগে গুন্নাই, গুন্দিতজমারা ও ডিয়াব উরুং সম্প্রদায়ের নির্দলীয় সিনেটর লিদিয়া থর্প কারাগারে হাতকড়া পরানো এবং শিশুদের শরীর তল্লাশি নিষিদ্ধ করার বিল সিনেটে উত্থাপন করেছিলেন। তিনি সংসদে বলেন, এসব নিষ্ঠুর প্রথা বন্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে রয়েছে।
সিনেটর থর্পের উত্থাপিত বিল সম্পর্কিত এক শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল যে কারাবন্দী নারীদের এক হাত ও এক পা হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, আর তারা তাদের মুক্ত থাকা অন্য হাত দিয়ে নবজাতক সন্তানকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নেওয়ায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন।
থর্প অভিযোগ করেন যে বর্তমান প্রশাসন এই প্রথা টিকিয়ে রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং বিষয়টিকে রাজ্য ও অঞ্চলের ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন যে কমনওয়েলথের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে একটি জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করার।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা মূলত রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর এখতিয়ারভুক্ত। কোয়ালিশন জোট জানিয়েছে যে তারা বিলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে, তবে এটি পাস করার পক্ষে সমর্থন দেবে না।
কুইন্সল্যান্ডের লিবারেল দলের সিনেটর পল স্কার দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে এই ঘটনার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি কুইন্সল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া নারী বন্দীদের আচরণ সংক্রান্ত জাতিসংঘের ব্যাংকক বিধিমালার একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। এই বিধিমালা অনুযায়ী গর্ভবর্তী নারীদের কারাদণ্ডকে শেষ বিকল্প হিসেবে রাখতে হবে এবং প্রসবের সময় কিংবা প্রসবের ঠিক অব্যবহিত পরে কোনো অবস্থাতেই হাতকড়া বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে না।
