জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পদে এক আমিরাতি কূটনীতিকের প্রার্থিতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সুদানের প্রবাসী নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা। সমালোচকরা বলছেন, সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে সমর্থন দিয়ে এই সংঘাত টিকিয়ে রাখার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আমিরাতের কূটনীতিক লানা নুসাইবা।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদ চলতি বছরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নুসাইবাকে মনোনীত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই মনোনয়ন জাতিসংঘের শীর্ষ পদপ্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে নাটকীয় মোড় দিয়েছে।
সুদান সরকারের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আরএসএফ নৃশংসতা চালাচ্ছে এবং আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে সেই বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে বলে প্রমাণ নথিভুক্ত করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। বিশেষ করে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এল ফাশের শহরে চালানো হামলায় গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
লানা নুসাইবা ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশটির বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরকারিভাবে অস্বীকার করে আসছেন। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের উইমেনস স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভের আঞ্চলিক পরিচালক হালা আল কারিব বলেন, সুদানে নিজের দেশের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো নজির নুসাইবার নেই।
মানবাধিকার সংস্থা আভাআজের আয়োজিত এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে আল কারিব বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ যদি তাকে সমর্থন দেয়, তবে তা প্রকারান্তরে আরএসএফের মাধ্যমে এল ফাশেরে সংঘটিত গণহত্যা অস্বীকার করার শামিল হবে। এদিনের ব্রিফিংয়ে নুসাইবার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সুদান অ্যাকশন হাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম আলদুমা অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, লানা নুসাইবা সফল হলে জাতিসংঘের ওপর থেকে মানুষের আস্থা পুরোপুরি উঠে যাবে। সুদানের সাধারণ মানুষকে কীভাবে বোঝানো যাবে যে জাতিসংঘ তাদের অধিকারের পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।
সুদান বুকরা টিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা হুসাম মাহজুব বলেন, এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মহাসচিব নির্বাচিত হলে জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব চলে যাবে আমিরাতি সরকারের প্রধান প্রবক্তার হাতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ ওই ব্রিফিংয়ে বলেন, নুসাইবা কোনো রকম বাস্তবতার তোয়াক্কা না করে আমিরাতের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের বিষয়টি নির্দ্বিধায় অস্বীকার করে আসছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অ্যাডভোকেসি প্রধান ব্রুনো স্ট্যাগনো উগার্তে গত বুধবার জানান, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আমিরাতের সঙ্গে আরএসএফের যোগসাজশের প্রমাণ এড়িয়ে গেছেন নুসাইবা, যা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লানা নুসাইবা দাবি করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পদ পেলে তিনি সুদানের যুদ্ধের জবাবদিহিতা ও অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশনগুলোর কাজ সমর্থন করবেন। তিনি আরএসএফের অপরাধগুলোকে নৃশংস আখ্যা দিয়ে জানান, জাতিসংঘের পদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি আমিরাত সরকারের মন্ত্রিত্ব থেকে সাময়িক ছুটি নিয়েছেন।
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হতে হলে কোনো প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে কমপক্ষে নয়টি ইতিবাচক ভোট পেতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য নামের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিটো এড়িয়ে চলতে হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অনানুষ্ঠানিক এক ভোটে কোস্টারিকার সাবেক সহসভাপতি রেবেকা গ্রিনস্প্যান সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে তিনিসহ অন্য সব প্রার্থীই স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর অন্তত দুটি করে বিরোধিতাপূর্ণ ভোট পেয়েছেন।
