কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত মঙ্গলবার দোহার লুসাইল প্রাসাদে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতা এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে শেখ তামিম বলেন, এই সফর দোহা ও প্যারিসের সুদৃঢ় সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে তিনি এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও কাতারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়াতে ফ্রান্সের অটল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকট নিয়ে আলাদাভাবে একান্তে বৈঠক করেন। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে বাহরাইন হয়ে দোহায় পৌঁছান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি কাতার আসেন। গত ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই আঞ্চলিক সফরের মূল লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করা।
এই সফরের আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা। ফরাসি প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পরই মূলত এই উত্তেজনা চরমে ওঠে। ওই সামরিক অভিযানের জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
এই কৌশলগত জলপথ বন্ধ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। চলমান এই বিশৃঙ্খলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের গতিপথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
