ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতি বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সীমাবদ্ধ এই করিডোরটি তাইয়েজ ও আদেনের মধ্যে একমাত্র সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। কিন্তু ওই গোষ্ঠীর আরোপিত অবরোধের কারণে এই রুটে সব ধরনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অঞ্চলটিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে கடுமையான বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন। হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবরুদ্ধ জনপদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এর ফলে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক জীবনযাত্রায় তাৎক্ষণিক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জর্জরিত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে পরিবহণ খরচ হঠাৎ করেই বহুগুণ বেড়ে গেছে।
দুস্থ জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলো ব্যাপকভাবে এই করিডোরের ওপর নির্ভর করে থাকে। এই বিধিনিষেধের কারণে বাইরের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের জীবনরক্ষাকারী সাহায্যপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক যানগুলোকে এখন ভাঙাচোরা বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই দ্বিতীয় সারির পথগুলো যাতায়াতে কয়েক ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পরিবহণ কার্যক্রমের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক বলে জোর দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তাইয়েজের স্থানীয় নেতারা এই পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। অবরোধের এই নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার পর থেকেই বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
