যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রশিদা তায়েব তাঁর সরকারকে একজন ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে হত্যার ঘটনায় ওই কমান্ডার জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রশিদা তায়েব জানান, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনা শোন গ্লাস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করছেন বলে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা তদন্ত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সরাসরি আইনি দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেনোসাইড কনভেনশন এবং জেনেভা কনভেনশনের পক্ষ দেশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার এবং তদন্ত করা আমাদের সরকারের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব বলে ওই বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি।
রশিদা তায়েব তার এই আহ্বানের সঙ্গে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদন যুক্ত করেন। গাজায় সংঘাতের সময় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর নজরদারি চালায় এই সংগঠনটি। শোন গ্লাসের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগে একটি জরুরি আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় মানবাধিকার গোষ্ঠীটি।
পাঁচ বছরের হিন্দ রাজাব, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের উদ্ধারে যাওয়া চিকিৎসকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শোন গ্লাস। এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে সংগঠনটি দাবি করে, হিন্দ রাজাবের গাড়িটির ঠিক কাছাকাছি অবস্থানে ওই সেনাসহ তার বাহিনী উপস্থিত ছিল।
বর্তমানে শোন গ্লাস কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন।
২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি হিন্দ রাজাবকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয় এবং চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনি শিশুদের চরম দুর্দিনের একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়।
গাজা শহর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন হিন্দ রাজাব। এ সময় তাদের গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালালে পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। হিন্দ রাজাব সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও ভয় পেয়ে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করে।
সাহায্য চেয়ে তার সেই টেলিফোন আলাপের অডিও রেকর্ড বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে শিশুটি এবং তাকে উদ্ধারে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরাও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান।
হিন্দ রাজাবকে বহনকারী গাড়িতে ৩৩৫টি বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনার কারণে গাড়িতে এই ক্ষতি হয়েছে বলে শুরুতে দাবি করেছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
তবে ফরেনসিক আর্কিটেকচারের একটি অনুসন্ধানে কোনো গোলাগুলির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার সময় ওই এলাকায় কেবল ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোই সক্রিয় ছিল বলে উপসংহারে পৌঁছায় ওই গবেষণা সংস্থাটি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েল অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করলেও ফিলিস্তিনিরা একে দায়মুক্তি পাওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৭৪,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে অন্তত ২১,০০০ শিশু রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের নানা অভিযোগ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমালোচনা করে আসছে ওয়াশিংটন।
