ব্যবসায়িক সফরে ইসরায়েলে প্রবেশ করতে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আটক ও পরবর্তীতে বহির্ষের শিকার হয়েছেন এক স্কটিশ নারী ব্যবসায়ী।
আটক ওই নারীর নাম ইয়াসমিনা ফেরিগান। তিনি এডিনবরাভিত্তিক ‘হাদিল’ নামক একটি বিপণীকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ফিলিস্তিনি ন্যায্য বাণিজ্যের পণ্য বিক্রি করে থাকে।
হাদিল প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহকারী ফিলিস্তিনি অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই তিনি তেল আবিবের বিমান বন্দরে অবতরণ করেছিলেন। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, নতুন উৎপাদকদের সন্ধান করা এবং নতুন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে প্রবেশে বাধা দেয় এবং অন্তত পাঁচ ঘণ্টা একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটকে রাখে।
স্কটিশ দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর কাছে নিজের ওপর হওয়া এই নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইয়াসমিনা একে জীবনের সবচেয়ে জঘন্য ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, ইসরায়েলিদের কাছে মানবজীবন ও মর্যাদার কোনো মূল্য নেই।
আটকের সময় জিজ্ঞাসাবাদকারীরা দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই কর্মীকে হামাসের সমর্থক এবং সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্ত করে। এছাড়া তিনি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলেও তারা দাবি তোলে।
গত পঁচিশ বছর ধরে স্কটল্যান্ডে বসবাস করছেন ইয়াসমিনা। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে এ কথাও বলেছিল যে তার আরও অনেক আগেই গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে এমন কথাও বলেন যে তার কোনো অস্তিত্ব থাকা উচিত নয় এবং তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে বলেও জানানো হয়।
তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটি ফিলিস্তিন অর্থনীতিকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলার এবং পঙ্গু করার একটি প্রক্রিয়া।
সীমান্ত কর্মকর্তারা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি হাদিলের একজন কর্মী হিসেবে অধিকৃত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে সেখানে ভ্রমণ করছিলেন।
