সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানি বিমানবহরে ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে ধ্বংস হয়েছে ৩০টি বিমান: জানাল ইরান এয়ার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে ধ্বংস হয়েছে ৩০টি বিমান: জানাল ইরান এয়ার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে প্রায় ৩০টি বিমান হারিয়েছে ইরান এয়ার। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় এই বিমান সংস্থার প্রধান এই তথ্য প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তাহের আবদোলহাই জানান, দেশটির সামগ্রিক চাহিদা মেটানোর জন্য অন্তত ১০০০টি যাত্রীবাহী বিমান প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দেশের জাতীয় বহরে বিমানের সংখ্যা মাত্র ৩০০টির কাছাকাছি।

যুদ্ধের সূত্রপাত হওয়ার আগে এর মধ্যে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০টি বিমান পুরোপুরি সচল ছিল। চলমান সংঘাতে এই সচল বিমানগুলোর মধ্য থেকেই ২০ থেকে ৩০টি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আবদোলহাই উল্লেখ করেন, শত্রুতার এই সময়ে মোট ৭০ থেকে ৮০টি বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরান এয়ারের সরঞ্জামে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যান্য অপারেটরের বিমানগুলো একক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এয়ারের একটি বিমান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এই বিস্তৃত সংঘাত দেশের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতেও ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান এয়ারের অপারেশনাল সক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বিমান সংস্থার প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা, তীব্র আর্থিক সংকট এবং জনবল সংকটের মতো বড় বড় প্রতিবন্ধকতাগুলোর কথা তুলে ধরেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন বিমান কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে ইরান।

ওয়াশিংটন ২০১৮ সালে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বোয়িং এবং এয়ারবাসের মতো বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিমানের চুক্তি ভেস্তে যায়, যার ফলে বেশ কয়েকটি বিমান অলস পড়ে থাকে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।

অপারেশনাল বহর সংকুচিত হয়ে আসলেও ইরান এয়ার বর্তমানে ৯০০০ জনেরও বেশি কর্মী নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিমানের সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকায় কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন আবদোলহাই।

একই সাথে জাতীয় এই বিমান সংস্থাকে কোনো ধরনের বেসরকারিীকরণের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি। সাধারণ বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইরান এয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

banner
Link copied!