সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দক্ষিণ চীন সাগর

শক্তি প্রয়োগের হুমকির অভিযোগ: তলব করা হলো চীনা রাষ্ট্রদূতকে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

শক্তি প্রয়োগের হুমকির অভিযোগ: তলব করা হলো চীনা রাষ্ট্রদূতকে

শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে ফিলিপাইনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিং কুয়ানকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার মানিলায় এই তলব করা হয়। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব মারিয়া তেরেসা লাজারো চীনা রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তার ওই মন্তব্য উসকানিমূলক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

লাজারো বলেন, রাষ্ট্রদূতের ব্যবহৃত এ ধরনের ভাষা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য বর্তমানের সংবেদনশীল দ্বিপক্ষীয় পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে এবং সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।

গত বৃহস্পতিবার মানিলায় এক অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত জিং কুয়ানের দেওয়া মন্তব্যের জেরে এই কূটনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর আগে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো জুনিয়র চীনকে আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

এক পার্শ্বীয় অনুষ্ঠানে সেই মন্তব্যের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত একে বর্জনীয় বলে উড়িয়ে দেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে বেইজিং যদি শক্তি প্রয়োগ করতে চায়, তবে তারা খুব সহজেই জয়লাভ করবে। তবে এর পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে চীন শান্তিপ্রিয় এবং সে কারণে তারা শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে।

রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র গত শুক্রবার বলেন যে এই কথাগুলো স্পষ্টতই হুমকির শামিল। তলব করার পর চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূতের পর্যাপ্ত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শক্তি প্রয়োগের কোনো ইচ্ছা নেই। কারণ ফিলিপাইন ও চীন বন্ধুপ্রতিম এবং নিকটতম প্রতিবেশী দেশ।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন যে সামুদ্রিক বিষয়ে বেইজিংয়ের ধৈর্য ধারণকে যেন দুর্বলতা হিসেবে না ভাবে ম্যানিলা। চীনা ধৈর্য পরীক্ষার মুখোমুখি না করার জন্যও ফিলিপাইন সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।

চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকেও ফিলিপিনো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সেখানে সামুদ্রিক জলসীমা লঙ্ঘন, চীনবিরোধী প্রস্তাব পাস এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের নানা ধরনের অপপ্রচার ও হামলার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

রাষ্ট্রদূত জিং কুয়ান বলেন যে এ ধরনের আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির মুখে দূতাবাস কোনোভাবেই নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। তিনি যোগ করেন যে বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল মোড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায় যে দেশটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে নিজ দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ভয় দেখানোর জন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতের এমন অপচেষ্টা মানিলা মেনে নেবে না।

banner
Link copied!