রাশিয়ার গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে এটিই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের প্রথম সফর।
এই সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছে মস্কো। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, এই সফরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে লাভরভের। পাশাপাশি তিনি নিজের ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।
লাভরভ জানিয়েছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই মস্কোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা এখনও অচলাবস্থার মধ্যেই রয়েছে।
অক্টোবরের শুরুর দিকে হওয়া একটি ফোনালাপের ধারাবাহিকতায় এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন যে, মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
রাশিয়া ও ইরান বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক নিষেধাজ্ঞার শিকার দুটি দেশ এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে দেশ দুটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয় এবং জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, কিন্তু হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশের এলাকায় সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ইরান এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণের দাবি করে, যার মাধ্যমেই স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ হাইড্রোকার্বন পরিবাহিত হয়। তেহরান নিয়মিতভাবে তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে থাকে।
এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে একটি নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেআইনি আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের ওপর বর্তমান আলোচনাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক উভয় স্তরেই স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
