পবিত্র মক্কার থাকের এলাকায় সম্পত্তি কেনা প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল দানান্তার প্রায় দুইশো কোটি সৌদি রিয়ালের সমপরিমাণ বা ৫৩ কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের এই সম্পত্তি ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক সনদ হাতে পেয়েছে।
,এলাকাটির মূল ডেভেলপার থাকের ডেভেলপমেন্টের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তারা ক্রেতাপক্ষের কাছে সমস্ত দাপ্তরিক কাগজপত্র হস্তান্তর করেছে। এই লেনদেনের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৬১ কক্ষবিশিষ্ট নভোটেল থাকের মক্কা হোটেল এবং এর সংলগ্ন ১৪টি প্লটের মালিকানা চূড়ান্ত হয়েছে।
,সৌদি আরবে অ-সৌদি নাগরিকদের স্থাবর সম্পত্তি মালিকানা আইন কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। গত জানুয়ারি মাস থেকে এই নতুন আইনটি কার্যকর হয়েছে।
,একই সঙ্গে এই চুক্তি সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির লক্ষ্য হলো দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৩ কোটি ওমরাহ যাত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো, যা দুই হাজার উনিশ সালে ছিল মাত্র ৮৫ লাখ।
,চুক্তিটি সম্পর্কে থাকের ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী ফয়সাল শাকের জানান, এটি থাকের মক্কার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই গন্তব্যে প্রথম কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পত্তি অর্জনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
,তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের অংশীদারিত্বের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে থাকে। মাত্র দশ মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে দলিলের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তাদের দল।
,জাকার্তার জন্য এই সম্পত্তি অর্জন কৌশলগত একটি বড় পরিবর্তন। প্রতি বছর মৌসুমী আবাসনের ওপর নির্ভর না করে দেশটি এবার তাদের হাজীদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করল।
,বিশ্বের সবচেয়ে বড় হজ কোটা রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার হাতে। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মৌসুমের জন্য দেশটির সাধারণ কোটায় নির্ধারিত রয়েছে দুই লাখ ৩ হাজার ৩২০টি আসন। এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ইন্দোনেশিয়ান ওমরাহ পালন করে থাকেন। নবসংগৃহীত এই হোটেলটি প্রতি হজ মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন হাজীকে সেবা দিতে পারবে।
,দানান্তারের প্রধান নির্বাহী রোসান রোয়েসদানি এই চুক্তিকে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এর মাধ্যমে সৌদির মাটিতে দীর্ঘমেয়াদী আতিথেয়তা বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো। রোয়েসদানি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। মদিনা ও অন্যান্য খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে দুই দেশের।
,তিনটি ১৯ তলা বিশিষ্ট এই হোটেলটির পরিচালনা অব্যাহত রাখবে অ্যাকর গ্রুপ। এদিকে দানান্তার সংলগ্ন ১৪টি খালি প্লটে নতুন স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৪৪ হাজার ৮৮ বর্গমিটার আয়তনের এই প্লটগুলোতে প্রায় ৬ হাজার নতুন কক্ষের হোটেল নির্মিত হবে। পাশাপাশি নব্বইটিরও বেশি খুচরা দোকানের একটি শপিং মলও থাকবে এই সম্প্রসারণ প্রকল্পে, যার পেছনে আরও দুইশো কোটি রিয়ালের বেশি বিনিয়োগ করা হবে।
,উল্লেখ্য, থাকের মক্কা প্রকল্পটি মোট ৩ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার জায়গার ওপর বিস্তৃত। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে মাত্র এক দশমিক দুই কিলোমিটার উত্তরে এই মাস্টার প্লটের অবস্থান।
