বেলুচিস্তান প্রদেশের তাফতান ও গাবদ রিমদান সীমান্ত দিয়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত করেছে পাকিস্তান। কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সীমান্তের উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে।
তবে গাবদ রিমদান সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সীমান্ত বন্ধের বিষয়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। প্রায় নয়শ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অভিন্ন সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে তেহরান ও বেলুচিস্তানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখিয়েছে।
চাগাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বখতিয়ার ইসমাইল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই পদক্ষেপটি একটি সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সফল করতেই এই সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরপরই সীমান্ত আবার খুলে দেওয়া হবে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শহীদ রিন্দ জানান, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান রোধ করা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সাময়িক এই অচলাবস্থার জন্য কারিগরি সমস্যা ও সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার পাশাপাশি এর পেছনে বড় ধরনের কৌশলগত কারণও থাকতে পারে। কোয়েটাভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক ইমতিয়াজ বেলুচ বলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সার্বিক কৌশলগত বিবেচনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পারস্য উপসাগরীয় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান জাভাদ হেইরান নিয়া জানান, তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী এর পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা, শুল্ক প্রক্রিয়া কিংবা আর্থিক লেনদেনের সমস্যাও জড়িত থাকতে পারে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। এর মধ্যে পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাবদ ও তাফতান রুট দুটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সীমান্ত বন্ধের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দুই দেশেই সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে জুলাই মাসে ৬২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন এবং সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা গত বারো বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। শুক্রবার মাসতুং জেলায় একটি ভ্যান থেকে কুড়িজন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়। এর দুদিন পর গোয়াদর জেলায় আইইডি বিস্ফোরণে এক সেনা মেজর নিহত হন।
সীমান্তের ওপারে ইরানের সিস্তান বেলুচিস্তান প্রদেশেও চলতি মাসে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে। জাহেদানের কাছে বোমা হামলায় এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং মেহেরস্তান জেলায় নিজ বাড়ির বাইরে খুন হন বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর এক নারী ইউনিটের কমান্ডার।
সুন্নি বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ আল আদল সিস্তান বেলুচিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তেহরান নিয়মিতভাবে অভিযোগ করে আসছে যে এই গোষ্ঠীটি পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে ইসলামাবাদ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
