এনবিএ নিয়মিত মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মঙ্গলবার বিকেলে ঘরের মাঠে বোস্টন সেলটিক্সকে ১২১-১১৩ পয়েন্টে পরাজিত করেছে ডেট্রয়েট পিস্টনস। দলের পক্ষে ডানকান রবিনসন তার মোট একুশ পয়েন্টের মধ্যে পনেরোটিই অর্জন করেন চতুর্থ কোয়ার্টারে।
ম্যাচের শুরুতে একপর্যায়ে বাইশ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছিল ডেট্রয়েট। তবে শেষ কোয়ার্টারে রবিনসনের নেতৃত্বে অবিস্মরণীয় এক তেইশ থেকে শূন্য রানের দৌড় উপহার দিয়ে সেলটিক্স শিবিরকে স্তব্ধ করে দেয় স্বাগতিকরা।
পিস্টনসের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জালেন ডুরেন ও কেড কানিংহাম, যারা প্রত্যেকে বাইশ পয়েন্ট করে অর্জন করেন। গত মৌসুমে ষাটটি জয়ের সুবাদে ইস্টার্ন কনফারেন্সে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল ডেট্রয়েট।
বেঞ্চ থেকে নেমে দলের জয়ে দারুণ গতি এনে দেন জাভন্টে গ্রিন। মাত্র আঠারো মিনিট মাঠে থেকে তিনি উনিশ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন।
স্বাগতিকদের পক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন আসার থম্পসনও। তিনি এগারো পয়েন্ট, এগারোটি রিবাউন্ড এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিজের নামের পাশে যোগ করেন।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বোস্টন। শুরুতে পঁয়ত্রিশ-ঊণচল্লিশ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকার পর টানা পনেরো পয়েন্ট তুলে নেয় সফরকারীরা।
প্রথমার্ধের শেষ আটটি পয়েন্ট একাই সংগ্রহ করেন পল জর্জ। তার এই দারুণ ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে আটচল্লিশ-আটপঞ্চাশ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেলটিক্স।
তৃতীয় কোয়ার্টারেও নিজের ফর্ম ধরে রাখেন জর্জ। বায়ান্ন সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি তিন পয়েন্টার সফলভাবে কাজে লাগিয়ে বোস্টনের ব্যবধান বাহাত্তর-পঞ্চাশে উন্নীত করেন, যা ছিল এই ম্যাচে কোনো দলের সর্বোচ্চ ব্যবধান।
জর্জকে থামানোর দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমে সফল হন গ্রিন এবং একই সঙ্গে ডেট্রয়েটের আক্রমণভাগকেও উজ্জীবিত করেন। তৃতীয় কোয়ার্টারে তিনটি তিন পয়েন্টারসহ এগারো পয়েন্ট তুলে নিয়ে ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্টে নামিয়ে আনেন তিনি।
চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে জর্জ একটি লে-আপ করলে স্কোর দাঁড়ায় বিরাশি-নব্বই। পিস্টনস চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করার আগে বোস্টন আবারও বারো পয়েন্টের লিড পুনরুদ্ধার করে, যার সূচনা হয়েছিল থম্পসনের একটি তিন পয়েন্টিং প্লে থেকে।
টানা এগারো পয়েন্ট সংগ্রহ করে ডেট্রয়েটকে আটানব্বই-নিরানব্বই পয়েন্টে নিয়ে আসেন রবিনসন। এরপর গ্রিনের একটি তিন পয়েন্টারে অ্যাসিস্ট করেন তিনি এবং ডুরেন একটি তিন পয়েন্টিং প্লে সম্পন্ন করেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট তেরো সেকেন্ড আগে রবিনসন আরও একটি তিন পয়েন্টার করলে পিস্টনস সাতান্ন-একশো সাত পয়েন্টে এগিয়ে যায়। ঘড়িতে আর তিন মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ড বাকি থাকতে গ্রিন আরও একটি তিন পয়েন্টার হাঁকিয়ে এই রানখরা ও ব্যবধান নিরানব্বই-একশো বারোয় নিয়ে যান।
শেষ মুহূর্তগুলোতে বোস্টন ব্যবধান চারে নামিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ম্যাচের শেষ ছয় দশমিক সাত সেকেন্ড বাকি থাকতে দুটি ফ্রি থ্রো সফলভাবে কাজে লাগিয়ে উদ্বোধনী দিনের জয় নিশ্চিত করেন গ্রিন।
