বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতে বিক্ষোভ দমন

ভারতে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের স্বাধীন তদন্ত দাবি জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

ভারতে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের স্বাধীন তদন্ত দাবি জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের

সম্প্রতি বিক্ষোভ দমনের নামে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে চলতি মাসে রাজপথে নেমে আসেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা। সমালোচকদের মতে, তালিকা পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন দুই ডজনেরও বেশি জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ। বিবৃতিতে জানানো হয়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হওয়া সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের আশ্রয় নেয় এবং হাজার হাজার মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেয়।

জনতা নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগের প্রচলিত পদ্ধতি অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা, সমাবেশের ওপর থেকে নির্বিচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং বায়োমেট্রিক ও ইন্টারনেট বন্ধ করে ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের এই বিবৃতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

আন্তর্জাতিক মহলের যেকোনো সমালোচনাকে বরাবরই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দাবি করে আসছে ভারত। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও বিক্ষোভের জেরে নির্বিচারে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার কারণে অনেক যোগ্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দরিদ্র, গৃহহীন মানুষ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষ করে মুসলমানদের বাদ দেওয়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত, কারণ হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপিকে তারা ভোট দেবে না বলেই ধারণা করা হয়।

তবে এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকা থেকে কেবল মৃত, দ্বৈত, স্থানান্তরিত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ভুলবশত বাদ পড়া ব্যক্তিরা আপিলের সুযোগ পাবেন।

ভারতের এই বিক্ষোভ দমনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠনগুলোও।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ আদেশের অংশ হিসেবে এসব বিশেষজ্ঞ নির্দিষ্ট মানবাধিকার সংকট পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করে থাকেন, যদিও তারা সরাসরি জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের প্রতিনিধিত্ব করেন না।

banner
Link copied!