মার্কিন কংগ্রেসের মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমরের প্রতি তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেডারেল আদালতে জমা পড়া একটি আইনি নথিতে এই আইনপ্রণেতার ভিন্ন একটি নাম ব্যবহারের পর এই দাবি উঠেছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরোর কার্যালয় থেকে বুধবার জমা দেওয়া একটি নথিতে কংগ্রেসওমেনকে ইলহান নূর সাইদ এলমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ইলহান আব্দুল্লাহি ওমর নামেও পরিচিত। আইওয়ার একটি নির্বাচনী সমাবেশে এই নথির বিষয়টি তুলে ধরেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি তাঁর সাবেক বিবাহসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন।
কংগ্রেসওমেনের ওয়াশিংটন এলাকার বাড়িতে চালানো একটি ফেডারেল সার্চ ওয়ারেন্টের তথ্য গোপন রাখার আইনি চেষ্টার অংশ হিসেবে আদালত এই নথিটি প্রস্তুত করেছে। গত ১২ অক্টোবর ফেডারেল এজেন্টরা ওই বাসভবনে তল্লাশি চালান। সে সময় মিডটার্ম নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তারা তাঁর পাসপোর্ট, কম্পিউটার, ফোন ও অন্যান্য নথিপত্র জব্দ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগ আরও জোরালো করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কংগ্রেসে শপথ নেওয়ার সময় যে নামটি ব্যবহার করা হয়েছিল তা ভুল। এ সময় তিনি সাবেক স্বামী আহমেদ নূর সাইদ এলমির সঙ্গে মিল থাকা পারিবারিক পদবীর বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এর আগে নিজের ভাইকে বিয়ে করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কংগ্রেসওমেন জবাব দিয়েছিলেন যে তাঁর জানামতে এমন কিছু ঘটেনি। ট্রাম্প যুক্তি দেন যে এই ধরনের উত্তর ইঙ্গিত দেয় যে তিনি পদের শপথ নেওয়ার জন্য মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জেমসভাইকেল জনসনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করার দাবি জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন যে বিরোধী দল তাঁর আসনটি ছেড়ে দিয়েছে এবং তিনি প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন।
এদিকে এই কংগ্রেসওমেন কীভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে একটি আলাদা ফেডারেল তদন্ত চলছে। এ ছাড়া তিনি বা তাঁর প্রয়াত বাবা দাপ্তরিক অভিবাসন নথিতে তাঁর বয়স ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তা নিয়েও তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মার্কিন রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
