শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জর্ডান গির্জায় হামলা

জর্ডানে গির্জার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত ৮ ও আহত ৪০

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

জর্ডানে গির্জার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত ৮ ও আহত ৪০

জর্ডানে একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলিতে গত শুক্রবার আটজন নিহত হয়েছেন। দেশটির সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়।

কর্তৃপক্ষ এই নৃশংসতাকে চরমপন্থীদের দ্বারা সংঘটিত একটি সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে অভিহিত করেছে। কারাক গভর্নরেটের হামুদ এলাকার সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ আল-মায়তাহ জানিয়েছেন, হামলাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আহতদের বেশির ভাগই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় ৪০ জন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজন আল ফারাইয়াহ বলেন, চরমপন্থীরা এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে জর্ডানের ভেতরে বা বাইরের কোনো পরিচিত গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা নির্ধারণ করার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মামলাকা গির্জার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তি গাছ ও একটি নিচু দেয়ালের আড়ালে থেকে ফুটপাত থেকে ভবনের দিকে গুলি চালাচ্ছে এবং পরে প্রবেশদ্বারের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে।

জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, এই গুলিবর্ষণের ঘটনা সন্ত্রাসী মতাদর্শ ও অন্ধ চরমপন্থার ফল। সমাজকে সেই পথে যেতে দেওয়া হবে না বলেও যোগ করেন তিনি।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকা খালেদ বুরকান আল-মামলাকাকে জানান, বন্দুকধারীরা যখন লাগাতার কয়েক মিনিট ধরে গুলি চালাচ্ছিল, তখন সেখানে কয়েক ডজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ইহাব আম্মারিন জানান, তিনি চারদিকে চিৎকার ও কান্নার রোল এবং রক্তে ভেজা মানুষদের মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছেন।

এই ট্র্যাজেডির কয়েক ঘণ্টা পর জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ কারাক সফর করেন এবং হতাহতদের দেখতে একটি সামরিক হাসপাতালে যান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অপরাধীদের সবচেয়ে কঠোর প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।

এক বিবৃতিতে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, কারাকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে সবচেয়ে কঠোর প্রতিশোধের মাধ্যমে। যারা নিজেদের বুলেট দিয়ে জর্ডানিয়ানদের বিভক্ত করতে পারবে বলে প্রলাপ বকে, আমাদের ঐক্যের সামনে তাদের কোনো সুযোগ নেই।

আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির শপিং মল, বিদেশি দূতাবাস এবং অন্যান্য স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বেসামরিক নাগরিক ও উপাসনালয়ের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

banner
Link copied!