শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেন সংঘাত

তাইজে হুথি হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু: মানবাধিকার সংগঠনের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

তাইজে হুথি হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু: মানবাধিকার সংগঠনের দাবি

ইয়েমেনে তীব্র শেলিংয়ের কারণে প্রাণ হারিয়েছে দুটি শিশু। আহত হয়েছেন আরও তিনজন সাধারণ নাগরিক। তাইজ প্রদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির পর হতাহতের এই বিবরণ প্রকাশ করেছে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হুথিরা একুশটি আলাদা অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ সময় সরাসরি আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে প্রায় দুইশ তেরোটি প্রজেক্টাইল বা গোলাবর্ষণ করা হয়।

আহতদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন, যারা শেলিংয়ের কারণে বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও চারজন বাসিন্দাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

ওই অঞ্চলে হুথিরা কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তাইজের দক্ষিণাংশে অবস্থিত আল-হুজুরিয়া এলাকায় তিনটি বাড়িতে হানা দিয়ে লুটপাট চালায় যোদ্ধারা। অভিযানের সময় আরও সাতটি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় দুটি ঘর।

বারবার শেলিং ও চলমান অবরোধ থেকে তাইজের বাসিন্দাদের রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তারা সতর্ক করে বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর এই সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা দিন দিন ফুরিয়ে আসছে।

এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর গত জুলাই থেকে চলা সামরিক উত্তেজনার সঙ্গেই মিল রয়েছে এসব ঘটনার।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর থেকে ডন অব ইয়েমেন বা ইয়েমেনের ভোর নামের একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে সরকারি বাহিনী। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমী জানিয়েছেন, হুথিদের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা সানা এবং আরও কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত শুরু হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুথিদের হাতে। অন্যদিকে এডেনসহ দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা।

banner
Link copied!