জর্ডানের একটি গ্রিক অর্থেোডক্স গির্জায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গত সোমবার তিনজনকে আটক করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত তদন্ত ও অভিযান দলের সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে এই তিন সন্দেহভাজনকে ধরা হয়। আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় তিনজনই আহত হন।
কারাক গভর্নরেটের হাম্মুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গির্জায় গত শুক্রবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। জানাজার একটি শোভাযাত্রার সময় হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলে নয়জন নিহত এবং পঁচিশজন আহত হন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জর্ডানে কারাক এলাকায় একটি খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী বসবাস করে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশ মানুষ খ্রিস্টধর্মের অনুসারী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজন আল ফারায়া গত সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের ধরে ফেলেছে এবং তরুণদের মধ্যে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখছে।
আল ফারায়া আরও বলেন, এই সহিংসতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে জড়িত প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান গত শুক্রবার থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন এবং সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন।
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ গত শনিবার এই হামলায় বেঁচে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠক ডাকেন। ওই বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান যে জর্ডানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবেই।
এর আগে গত শুক্রবার রাজা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে এই বন্দুক হামলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কঠোরতম জবাব দেওয়া হবে।
গত রবিবার গির্জার পাশের প্রাঙ্গণে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে দাফন করা হয়। জানাজায় প্রচুর মানুষের পাশাপাশি বহু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও কঠোর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শোকার্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো গোরস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
