সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সুদানে বিদ্যুৎ সংকট

সুদানে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: ব্যাপক ব্ল্যাকআউট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

সুদানে পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: ব্যাপক ব্ল্যাকআউট

সোমবার সুদানের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আধা সামরিক বাহিনী। সরকারের একজন কর্মকর্তা জানান, এই সমন্বিত হামলার কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলের বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, ড্রোনগুলো আল-জাজিরা প্রদেশে দুটি, গেদারেফ প্রদেশে দুটি এবং হোয়াইট নাইল প্রদেশে একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর ফলে এই তিনটি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

হামলার শিকার তিনটি প্রদেশই বর্তমানে সুদান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের ভয়াবহ সংঘাত চলছে।

আল-জাজিরা প্রদেশের এক সংবাদকর্মী জানান যে, রাত দুইটার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারাও একই সময়ে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গেদারেফ প্রদেশের আল-ফাও এলাকার বাসিন্দা বাবেকর ইউসুফ টেলিফোনে গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার ভোরের দিকে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয় এবং এতে তাঁর পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

বাবেক ইউসুফ বলেন, আমার ছেলের ডায়াবেটিস রয়েছে এবং তার ইনসুলিন ফ্রিজে রাখতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ওষুধ নষ্ট হয়ে গেলে তিনি তা আর সংগ্রহ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, বিদ্যুৎ কবে ফিরবে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

এর আগেও আধা সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ অচল হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল দিনের পর দিন অন্ধকারে ডুবে ছিল। এই নিয়মিত হামলাগুলো কোটি কোটি মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে বারবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

প্রায় দুই কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটের মুখোমুখি থাকা একটি দেশে এই অবকাঠামো আক্রমণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য সংকট বলে বর্ণনা করেছে।

banner
Link copied!