বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে দামেস্কে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী: আসাদের সঙ্গে বৈঠক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে দামেস্কে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী: আসাদের সঙ্গে বৈঠক

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বুধবার দামেস্কে পৌঁছান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী সালেহ আল জাইদি। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারাার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে তাঁর এই সফর।

দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরাকি নেতাকে অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারাা। এ সময় দুই দেশের রাষ্ট্রীয় প্রধানের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়, যা পরিদর্শন করেন সফররত প্রধানমন্ত্রী।

সফরকালে দুই শীর্ষ নেতা একান্ত বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে একটি বর্ধিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পারস্পরিক আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সফরটির আগে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারাা জানান, সম্পর্ক গভীর করার ক্ষেত্রে সিরিয়া ও ইরাকের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত মজবুত করা এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এর আগে মঙ্গলবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সিরীয় নেতা সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ খাত এই সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত।

প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারাা সিরিয়াকে ইরাকের জন্য একটি কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করেন। এই ভূখণ্ডের মাধ্যমেই ইরাক ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিমা বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।

ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও বন্দরের সঙ্গে সিরিয়ার তারতুস বন্দরের সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া উভয় দেশকে আঞ্চলিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে স্থলপথের যোগাযোগ উন্নয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

গত ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে দেশ দুটির সীমান্ত দিয়ে এক লাখের বেশি ট্রানজিট ট্রাক এবং ৪০ হাজার আমদানি-রপ্তানি ট্রাক যাতায়াত করেছে।

আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকছে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা। এর মধ্যে রয়েছে তেল পাইপলাইন প্রকল্প, শোধনাগার নির্মাণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ।

সিরিয়ার বানিয়াস বন্দরে পাইপলাইনগুলো পুনর্নির্মাণ করা হলে উভয় দেশ উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারাা। এছাড়া সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে ইরাকি বিনিয়োগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী আলী সালেহ আল জাইদির নেওয়া পদক্ষেপে সমর্থন জানান। পাশাপাশি অস্ত্র পুরোপুরি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

যুদ্ধ কিংবা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রের হাতেই থাকতে হবে। একই সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পানি ও কৃষিখাতের অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় উভয় দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের ভ্রমণ সহজ করা এই সহযোগিতার অন্যতম অগ্রাধিকার।

দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ, গোষ্ঠীগত সংঘাত এবং স্বৈরশাসন দুই দেশেরই সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নিবিড় সহযোগিতা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে সাহায্য করবে।

জোট বাহিনীর মাধ্যমে বাগদাদে স্থানান্তরিত বন্দিদের বিষয়ে ইরাকি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের যোগ্য সিরীয় নাগরিকসহ এসব মামলার মূল্যায়নে একটি যৌথ কর্মসূচি গঠনে সম্মত হয়েছে দুই সরকার।

banner
Link copied!