সুদানের মানাগিল শহরের পূর্বাংশে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত পক্ষ। মঙ্গলবার সংঘটিত এই হামলার ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় একটি তেলের ডিপোর ভেতরে থাকা জ্বালানি ট্যাংকার এবং স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনও লক্ষ্যবস্তু হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
ধারাবাহিক ড্রোন হামলার তৃতীয় দিনে এই ঘটনা ঘটে। যেসব শহরে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধ চলছে না এবং সুদান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, মূলত সেসব এলাকাতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
মধ্য সুদানের খার্তুম ও গেজিরা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিনার এবং পূর্বাঞ্চলের গেদারেফ শহরেও একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সুদানের জ্বালানি ও তেল মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, খার্তুম ও রিভার নীলসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় একটি ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে এবং এর জন্য র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে দায়ী করে।
সুদান ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি সোমবার জানায় যে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ড্রোন ব্যবহার করে পাঁচটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সিনার, গেদারেফ এবং গেজিরা রাজ্যে এসব হামলা চালানো হয়।
সুদানে চলমান ড্রোন হামলা নিয়ে মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার ফলে বেসামরিক অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আক্ষরিক অর্থে আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বাহিনীকে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
