শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেনে হুথি অভিযান

সানা ও আশপাশের বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহের চাপ হুথি মিলিশিয়ার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

সানা ও আশপাশের বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহের চাপ হুথি মিলিশিয়ার

ইয়েমেনের রাজধানী সানার বেসরকারি স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহের অভিযান জোরদার করেছে হুথি মিলিশিয়ারা। মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধার ঘাটতি পূরণ করতে এবং জনবলক্ষয় সামাল দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে পাঠাতে বাধ্য করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এতে রাজি হচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া, জরিমানা ও নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সানার বিভিন্ন শিক্ষাসূত্র জানিয়েছে, হুথিদের জিম্মি বা জিহাদি বিভাগ সানা ও এর উপকণ্ঠের সাড়ে পাঁচশর বেশি বেসরকারি স্কুলকে টার্গেট করে এই অভিযান শুরু করেছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে সানার দশটি জেলার বিভিন্ন স্কুলে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন হুথি পরিদর্শকরা। তারা প্রতিটি স্কুলের প্রশাসনকে সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য অন্তত পাঁচজন করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হুথিদের এই অভিযান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পরিবারের অগোচরেই শ্রেণিকক্ষ থেকে শিশুদের তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের ওপর চরম আদর্শগত মগজধোলাই ও সামরিক প্রশিক্ষণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।

হুথিদের এই অব্যাহত চাপ ও আকস্মিক পরিদর্শনের কারণে বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সানার মধ্যভাগের মাইন জেলার চার সন্তানের জনক আবদুল্লাহ জানান, তিনি তার মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়পড়ুয়া দুই সন্তানকে বাড়িতেই আটকে রেখেছেন।

হুথির রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর তিনি আর ভরসা রাখতে পারছেন না। এখন তাকে হয় সন্তানদের শিক্ষাবঞ্চিত করতে হবে, নয়তো সামরিক মগজধোলাইয়ের ঝুঁকিতে ফেলতে হবে।

আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা তো সন্তানদের পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য স্কুলে পাঠিয়েছি, সামরিক কোর্স বা যুদ্ধক্ষেত্রে বলি দেওয়ার জন্য নয়।

সানার দক্ষিণাঞ্চলের আল সাবিইন জেলার একটি বেসরকারি স্কুলের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হুথিদের সাংস্কৃতিক সুপারভাইজারদের কাছ থেকে স্কুল প্রশাসনগুলো চরম চাপের মুখে রয়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে এবং গত কয়েক বছর ধরে লাখ লাখ শিক্ষক কোনো ধরনের বেতন পাচ্ছেন না।

banner
Link copied!