যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ও অপ্রত্যাশিত প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই প্রতিক্রিয়ার কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি এই কড়া বার্তা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান যে শত্রুদের বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ এখন ইরানি সামরিক বাহিনীর নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
ইরানি এই সামরিক কমান্ডার দাবি করেন যে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে ইরান এখন চতুর্থ শক্তির কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং এই জলপথে যাতায়াতের নিয়ম নির্ধারণের সক্ষমতার ফলেই দেশটি এই মর্যাদা অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য তেহরানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জরুরি পাঁচটি শর্ত তুলে ধরেছেন মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি। তাঁর প্রথম শর্তে লেবানন ও গাজা উপত্যকার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সামরিক হুমকির ছায়াতলে পরিচালিত যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনাও তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে। আব্দুল্লাহির তৃতীয় পয়েন্টে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটিতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তেহরান এই বিষয়ে নিজেদের কোনো দেনাদার নয় বরং পাওনাদার হিসেবে বিবেচনা করে।
চতুর্থ শর্তে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বর্তমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে হরমুজ মেকানিজম নামের একটি আঞ্চলিক বিকল্প ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ তথা পঞ্চম শর্তে নতুন করে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া এই প্রস্তাবে কেবল আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মাঝেই এই কঠোর ঘোষণাগুলো এল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই শত্রুতা চরম রূপ ধারণ করেছে। যেকোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরান বরাবরই মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
ইরানের সংসদ স্পিকার এবং তেহরানের আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাখের কালিবফ এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। গত মঙ্গলবার কালিবফ জানান যে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরান একটি যৌক্তিক ও দৃঢ় জবাব দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে আরেকটি যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব কি না, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন সেটিই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
