মাঠে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচ চলাকালীন তেনেদেরির ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল বিশ্বে।
সোমবার তেনেদেরির এস্তাদিও হেলিয়োদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে আন্দোরাকে আতিথ্য দিয়েছিল স্বাগতিক দল এবং নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় ছিল। লা লিগা টু এই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের খেলা যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই মারাত্মক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তেনেদেরির ডি-বক্স থেকে বলটি ক্লিয়ার করার পর সেটি মিডফিল্ডের দিকে বাউন্স করে এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বলের পেছনে ছোটেন। সে সময় আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওয়োনোর সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয় এবং গোলরক্ষকের হাঁটু সজোরে দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই গোলরক্ষককে লাল কার্ড দেখান রেফারি। মাটিতে লুটিয়ে পড়া দে মিগুয়েলের চিকিৎসায় দ্রুত মাঠে ছুটে আসার জন্য পাগলের মতো ইশারা করতে থাকেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা।
খেলোয়াড়দের চোখে জল থাকায় এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সান্তা ক্রুজের হসপিতাল উনিভার্সিতারিও দে নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া অ্যাম্বুলেন্সে দে মিগুয়েলের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় বলে জানায় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সকালে ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যথায় ভেঙে পড়ে, গলায় কষ্ট জমে থাকা অবস্থায় এবং এটি যে সত্যি তা বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি।
ক্লাব আরও জানায়, সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষাই এই মুহূর্তে নেই। এই গভীর বিষাদ ও শূন্যতা প্রশমিত করার মতো কিছুই নেই। আমরা তার শোকার্ত পরিবার, প্রিয়জন এবং তেনেদেরির সেই সব মানুষের পাশে আছি যারা আজকের এই নিষ্ঠুর পরিণতির জন্য শোক প্রকাশ করছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, খেলোয়াড়ের পরিবার সবার কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ এবং এই ভয়াবহ মুহূর্তে তারা নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া দে মিগুয়েল ২০১৫ সালে লেগানেস বির হয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে স্পেনের আরও আটটি ক্লাবের হয়ে খেলেন। ২০২৫ সালে তিন বছরের চুক্তিতে তিনি তেনেদেরিরে যোগ দিয়েছিলেন।
তেনেদেরিরে আসার আগে তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে কাস্তেলনের হয়ে পেশাদার অভিষেক করেন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে কাস্তেলনকে দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত করতে ১৬ গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি।
