ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশ পরিচালনার আর উপযুক্ত নন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইসেনকট। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধী দলীয় এই নেতা বলেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এক কাল্পনিক জগতে বসবাস করছেন।
আইসেনকটের দাবি, এর আগে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সমাজকে ভেঙে দিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীকে দুর্বল করেছেন। আর এখন তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস করার দিকে মন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরই এই সমালোচনা সামনে আসে।
রোববার নেতানিয়াহু জানান যে তিনি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেছেন। এর মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে আরও বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চিরকাল থাকবে না এবং দেশটিকে এর সমাপ্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। তবে ইসরায়েল পুরোপুরি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে সরে দাঁড়াবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবকে বিবিকয়েন বলে উপহাস করেন আইসেনকট। বিদেশি গ্রাহকদের সেবা দেওয়া ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এড়িয়ে পেমেন্ট গ্রহণ করবে বা বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আর্থিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ইসরায়েলি কোম্পানির আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণ কীভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তা জানতে চান বিরোধী এই নেতা। তিনি সতর্ক করে বলেন যে এই পথ অনুসরণের ফলে কোম্পানিগুলো বিদেশে চলে যেতে পারে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ নাগরিকরা দেশত্যাগে বাধ্য হতে পারে।
আইসেনকটের মতে, এই ধরনের পরিণতির কারণে কর্মসংস্থান কমবে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বাজেট হ্রাস পাবে, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হলে নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে এই পথেই নিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং তা অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে।
গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলার কারণে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
মঙ্গলবারের নেসেট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যেখানে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু ও আইসেনকটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। একটি উন্নত ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান আইসেনকট।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার জন্য নিরাপত্তা ত্রুটি, পরবর্তী সামরিক তৎপরতা, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা, অর্থনীতি এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্কের দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিতে গভীর বিভাজন রয়েছে।
