শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

সার্বিয়ার সংসদীয় নির্বাচন

সার্বিয়ায় আগাম নির্বাচন: দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের পর ভোটগ্রহণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

সার্বিয়ায় আগাম নির্বাচন: দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের পর ভোটগ্রহণ

একটি আগাম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় সংসদের আড়াইশো সদস্য বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন সার্বিয়ার ভোটাররা। রিপাবলিক ইলেকটোরাল কমিশন জানিয়েছে যে আট হাজার ৩৯২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৪ লাখ ৫০ হাজার ৫২৩ জন। স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত আটটায় শেষ হয়েছে।

মাসের পর মাস ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন এবং প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের পদত্যাগের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দুই মেয়াদ পূর্ণ করার পর এবং সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পদত্যাগ করেন ভুচিচ। তবে এবার তিনি ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি বা এসএনএসের পক্ষে আলেকজান্ডার ভুচিচ ইউনাইটেড সার্বিয়া জোটের হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারে ফেরার চেষ্টা করছেন।

২০১২ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন জোটগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে এসএনএস। দলটির নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অব্যাহত বিনিয়োগ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনেও কিছুটা উত্তেজনা দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে সার্বিয়া।

ক্ষমতাসীন শিবিরের বিরুদ্ধে লড়ছে বিরোধী দল ও নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো। এর মধ্যে নোভিসাদ শহরে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে জন্ম নিয়েছে স্টুডেন্টস উইন নামের ছাত্র জোটটি। জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার সংস্কারের দাবি তাদের প্রচারণায় উঠে এসেছে।

ইভিকা দাচিচের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ সার্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারে অংশ নিয়ে আসছে এবং নিজেদের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। দাচিচ কসোভোর স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেওয়া, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ন্যাটোর সদস্য হওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

মারিনিকা তেপিচ ও জ্দ্রভকো পোনোসের সঙ্গে যুক্ত ইউরোপিয়ান সার্বিয়া জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের পক্ষেকাল কাজ করছে। এই জোটটি আইনের শাসন, স্বাধীন আদালত এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এসএনএসের নেতৃত্বাধীন কোনো সরকারকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মিলোস জোভানোভিচের নেতৃত্বাধীন অথেনটিক রাইট জোটটি একটি জাতীয়তাবাদী বিকল্প ধারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইইউর সঙ্গে সহযোগিতাকে সমর্থন করলেও এই জোট পূর্ণ সদস্যপদের বিরোধিতা করে এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এ বিষয়ে গণভোটের দাবি জানিয়েছে।

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে সার্বিয়ায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদে আসন পেতে হলে বেশিরভাগ দলকে অন্তত তিন শতাংশ বৈধ ভোট পেতে হয়, তবে জাতীয় সংখ্যালঘু দলগুলো এই নিয়মের বাইরে থাকে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দল বা জোটের ১২৬টি আসন প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দেশের বৈদেশিক নীতির নানা ইস্যু। সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হলেও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি। পাশাপাশি, ২০০৮ সালে কসোভোর ঘোষণাকৃত স্বাধীনতাকেও স্বীকৃতি দেয়নি বেলগ্রেড।

banner
Link copied!