রাজনৈতিক উদ্বেগ ও বিলম্বিত বাজেট নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সরকারের ব্যর্থতার জেরে মঙ্গলবার চব্বিশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাংশের ওপরে উঠে যায় ফ্রান্সের ঋণগ্রহণের খরচ।
ফরাসি অর্থ বিভাগের ইস্যু করা ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে নতুন করে শেয়ার বিক্রির চাপ। সকালে লেনদেন শুরুর সময় এই বেঞ্চমার্ক সুদের হার আট বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে পাঁচ শতাংশে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে সামান্য কমে চার দশমিক ৯৯ শতাংশে নামে।
ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে এই আর্থিক চাপ এমন এক সময়ে তৈরি হলো যখন দেশটি তীব্র রাজপথের আন্দোলন এবং আগামী বছরের বাজেট পাস করতে না পারার সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর বিভিন্ন শহরের সরকারি ভবনগুলোতে এখনো ধোঁয়া উড়ছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার, শিক্ষক সংকট দূর করা এবং ক্লাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। খুব দ্রুতই এই আন্দোলন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিক্ষোভে রূপ নেয়।
শুরুতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলেও পুলিশ প্রায়শই কঠোর ও আগ্রাসী কৌশল গ্রহণ করে, যা ফ্রান্সের বহু শহর ও জনপদে দাঙ্গা ছড়িয়ে দেয়। লুই ভিটনের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকানে লুটপাট চালানো হয় এবং লিমোজ শহরের টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ২০২৪ সালে আকস্মিক নির্বাচন দিলে কোনো দলই এককভাবে সংসদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং অবসর গ্রহণের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করার পরিকল্পনা থমকে গেছে।
ফ্রান্স ২০২৫ সালে মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ৫ দশমিক এক শতাংশ বাজেট ঘাটতির মুখোমুখি হয় এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় জিডিপির ১১৫ দশমিক ছয় শতাংশে। পূর্বাভাস বলছে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলতি অর্থবছরে এই উভয় সূচকই আরও বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা প্যারিসকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এখন বেশ রক্ষণশীল হয়ে উঠেছে এবং সরকারের অতিরিক্ত অর্থ খরচের সমালোচনা করছে। জাপানি তহবিল ব্যবস্থাপকদের মতো কিছু বিনিয়োগকারী সম্পূর্ণভাবে পিছু হটেছে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য চড়া সুদের দাবি তুলছে।
বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম এবুরির বাজার কৌশলের প্রধান ম্যাথিউ রায়ান জানান, ফরাসি সমস্যাগুলোর কারণে অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ইউরোর মান কমে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ফ্রান্সে রাজনৈতিক ঝুঁকির এই বাড়তি ব্যয় সহসা দূর হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রায়ানের মতে, বাজেট শেষ পর্যন্ত সংসদে পাস হবে কিনা তা অনিশ্চিত এবং পাস হলেও বাম ও ডানপন্থীদের ছাড় দিতে গিয়ে বাজেট ঘাটতি সমস্যা হয়তো পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
