শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

শেনজেন সীমান্ত সংকট

স্পেন ও ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার: সেউতা সংকটের অবসান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:০০ পিএম

স্পেন ও ইতালির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার: সেউতা সংকটের অবসান

একে অপরের নাগরিকদের জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে রাজি হয়েছে ইতালি ও স্পেন। এর মাধ্যমে রোম ও মাদ্রিদের মধ্যকার তিন মাসের দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটল।

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতাতে ব্যাপক সংখ্যক অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীর প্রবেশের পর থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই সংকট নিরসনে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসি ও স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা ফোনালাপে অংশ নেন।

ইতালীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্মুক্ত সীমান্ত শেনজেন ব্যবস্থার স্থগিতাদেশ আর না বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তা।

পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালীয় মন্ত্রণালয়। অভিন্ন শেনজেন অঞ্চলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তথ্য বিনিময়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মধ্যকার বৈঠকের পর এই সমঝোতা হয়।

গত ৩১ জুলাই স্পেনের সঙ্গে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছিল ইতালির কট্টর ডানপন্থী সরকার। সেউতা ছিটমহলে প্রবেশ করা কোনো অভিবাসী যাতে কোনোভাবেই ইতালীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল রোম।

এর জবাবে ইতালির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সরকার ইতালির এই পদক্ষেপকে অন্যায্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্পেনের জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছিল।

গত ৩০ ও ৩১ জুলাই প্রতিবেশী মরক্কো থেকে বাধা অতিক্রম করে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সাঁতরে সেউতাতে প্রবেশ করার পরই এই পাল্টাপাল্টি সীমান্ত বন্ধের ঘটনা ঘটে। এই নজিরবিহীন সীমান্ত পারাপার স্প্যানিশ ভূখণ্ডে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।

সেখানে পৌঁছানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেলেও অভিভাবকহীন শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ করুণ পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘ সপ্তাহ ধরে আটকে ছিল।

সেউতার এক স্থানীয় বাসিন্দা রুবেন গঞ্জালেস এই দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশার কথা জানান। গঞ্জালেস বলেন, আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সরকার স্বল্প বা মধ্যমেয়াদে কিছু একটা করবে, কিন্তু আমরা দুই মাস ধরে এখানে আছি এবং এই মানুষগুলোকে ফেরত পাঠানো হয়নি।

নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পুনরায় জয়লাভের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছিল এই বিশাল অভিবাসী প্রবেশের ঘটনাটি। লাখ লাখ অনিবন্ধিত বিদেশি বাসিন্দাকে বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আগেই সমালোচনার মুখে ছিলেন সানচেজ।

ছিটমহলে এই ঘটনার পর কট্টর ডানপন্থী ভক্স এবং মধ্যডানপন্থী পিপিপি দলগুলো সানচেজের বিরুদ্ধে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে নমনীয়তার অভিযোগ তোলে। নির্বাচনের প্রাক্কালে তাদের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই অভিবাসন ইস্যুটি।

banner
Link copied!