জাতিসংঘের বিমান চলাচল সংস্থা সিরিয়ার আকাশসীমা নিয়ে গত ১৩ বছর ধরে বলবৎ থাকা নিরাপত্তা সতর্কতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সিরিয়ার কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির সাধারণ বিমান চলাচল ও আকাশপথ পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রধান ওমর আল হোসারি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে ২০১৩ সালের ২২ মার্চ দামেস্ক ফ্লাইট ইনফরমেশন অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী বেসামরিক বিমানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ওই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ওমর আল হোসারি জানান, জাতিসংঘের এই সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে পুরনো সেই সতর্কতা এখন থেকে আর কোনো অপারেশনাল সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে না।
ভবিষ্যতে আকাশপথের ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ পরিচালিত হবে হালনাগাদ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা মানদণ্ডের ভিত্তিতে। সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থাকে ওমর আল হোসারি জানান, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার আকাশসীমাকে বিশ্ব বিমান চলাচল নেটওয়ার্কে পুনরায় যুক্ত করতে সহায়তা করবে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দেশের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক সরকার এবং বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলো সিরিয়ার আকাশপথ ব্যবহারকারী ফ্লাইটগুলোর পাশাপাশি সিরিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে আসা ও ছেড়ে যাওয়া বিমানের বিষয়ে তাদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে পারবে।
ওমর আল হোসারি উল্লেখ করেন, নীতির এই পরিবর্তন আকাশপথের ট্রাফিক বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং আরও বেশি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকে দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে উৎসাহিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত পৃথক দেশ বা স্বাধীন নিয়ন্ত্রকদের আরোপ করা অপারেশনাল নিষেধাজ্ঞাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলে নেবে না।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে এই সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো দূর করতে চলমান কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রচেষ্টাকে সমর্থন জোগাবে এই রায়। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসারে জাতিসংঘ সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে সিরীয় কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের সংস্থার এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা সিরিয়ার আকাশসীমা নিয়ে আলাদাভাবে একটি সংঘাত অঞ্চলের তথ্য বুলেটিন বজায় রেখেছে। গত ১ অক্টোবর সেই বুলেটিন সংশোধন করা হয় এবং তা ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে সাময়িক বন্ধ থাকার পর গত এপ্রিল মাসে সিরিয়া তাদের আকাশপথ পুনরায় খুলে দেয় এবং দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দেশটির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ওমর আল হোসারি।
এ ধরনের পুনরুদ্ধার সামগ্রিক বিমান চলাচল বাড়াতে পারে এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে।
