শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো

কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মস্কো বিদ্যুৎহীন করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ জেলেনস্কির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মস্কো বিদ্যুৎহীন করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ জেলেনস্কির

জ্বালানি অবকাঠামোতে তীব্র রাতের হামলার পর কিয়েভ ও পুরো দেশকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টার জন্য শনিবার রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই সর্বশেষ বিমান হামলায় মস্কো ১৭২টি ড্রোন এবং ৩৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কিয়েভের সঙ্গে সংযোগকারী একটি স্থাপনাসহ পাঁচটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ সাবস্টেশনগুলোতে এই হামলা আঘাত হানে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ করার সময় শনিবার দ্নিপ্র নদীর ওপরের উত্তর সেতুটি বন্ধ রাখা হয়।

সারা সপ্তাহজুড়ে দিনব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর এই বোমাবর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, পানি ও গরম পানির সরবরাহ নিয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রেমলিন শীতের মাসগুলোতে সাধারণ মানুষকে ঠান্ডায় কাবু করে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এই কৌশল নিয়েছে এবং একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাজধানীতে চৌদ্দ বছরের এক কিশোরীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, একই সঙ্গে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি মস্কো লক্ষ লক্ষ মানুষের একটি শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো বেছে নিয়েছে।

সংঘর্ষ অবসানের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিতে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অবিরাম রুশ হামলার মুখে ইউক্রেনকে যেন একা ছেড়ে দেওয়া না হয়, সে কথা উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা বাড়ানোর জন্য মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনা থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল আসার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী নন ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পেশ করা সর্বশেষ রূপরেখাকে ১৯৪৫ সালের যুদ্ধোত্তর ইউরোপ বিভাজনকারী ইয়াল্টা সম্মেলনের সঙ্গে তুলনা করে একে ইয়াল্টা ২.০ বলে উল্লেখ করেছেন।

কুশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ন্যাটোর সম্প্রসারণ উল্টে দেওয়ার ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পাশাপাশি এই আলোচনাগুলোতে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টিসহ ইউরোপের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে জেলেনস্কি এবং তাঁর ইউরোপীয় সহযোগীরা এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।

জেলেনস্কি সিএনএনকে বলেন, ইউরোপীয় ও রুশ নিরাপত্তা অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা করা সহজ নয় এবং এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইউক্রেনকে রাশিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত করা হোক তা তাঁরা চান না এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর কথা বিবেচনা করার আগে মস্কোকে অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ও অর্থপূর্ণ নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

রুশ দাবি মেনে নেওয়া মানে কার্যকরভাবে ন্যাটোর বিলুপ্তি ঘটবে বলে সতর্ক করেছেন পশ্চিমা কূটনীতিকরা। শনিবার ভোরের এই হামলায় জ্বালানি ও পরিবহন সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রণক্ষেত্রে অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার পর থেকেই গত গ্রীষ্মকাল থেকে ইউক্রেনের শহরগুলোতে বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। কিয়েভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রাশিয়ার ৫৪ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, যা এই যুদ্ধের যেকোনো এক মাসে সর্বোচ্চ হতাহতের রেকর্ড।

banner
Link copied!