জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন যে তার দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে। আম্মানে গত বৃহস্পতিবার সংঘটিত এক ছুরি হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরেকজন আহত হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান করপোরাল জাওয়াদ আল-সালায়তার হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। দায়িত্ব পালনকালে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কথা জানান তিনি।
জাফর হাসান লিখেছেন, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা এবং তাদের সহযোগীদের ওপর আমরা লৌহকঠিন হাতে আঘাত হানব। তিনি আরও যোগ করেন যে চরমপন্থী মতাদর্শের বিষয়ে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, হামলাকারীকে নিবৃত্ত করতে গিয়ে আহত হওয়া লেফটেন্যান্ট ফিরাস আল-আনানিজের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আদালত এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
কারাকের একটি জানাজায় বন্দুক হামলার ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল। হমৌদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থেোডক্স চার্চে বন্দুকধারীরা গুলি চালালে নয়জন নিহত এবং অন্তত চল্লিশজন আহত হন।
রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ওই গুলিবর্ষণের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার এবং চরমপন্থী মতাদর্শ মোকাবেলায় আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চার্চে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন সন্দেহভাজনের বিচার গত বুধবার শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আদালত। আসামিরা প্রাণহানি ঘটানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নয়টি অভিযোগসহ একাধিক সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
এই সহিংসতার ঘটনাগুলো জর্ডানে আরও কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দাবি জোরালো করেছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ইব্রাহিম তারাওয়াতেহ গত শুক্রবার ঘোষণা করেন যে, বর্তমান আইনের ফাঁকফোকর দূর করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সংসদ ও সরকার যৌথভাবে কাজ করবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবিত সংস্কারের লক্ষ্য হলো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা প্রতিহত করা, সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং অনলাইনভিত্তিক লোকবল সংগ্রহ বন্ধ করা এবং চরমপন্থী মতাদর্শের বিস্তার রোধে কারাগারগুলোর পুনর্বাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক লাইথ নাসরাউইন জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে বড় অপরাধের জন্য সাজা বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসী অর্থায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে কেবল শাস্তি প্রদানই যথেষ্ট নয়, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ প্রয়োজন। জর্ডান নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থার মধ্যে চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলোর উগ্রায়ন ও লোকবল সংগ্রহের চেষ্টা চিরতরে বন্ধ করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
