হরমুজ প্রণালীর সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে এবার অপর এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ পানামা খালে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সীমা আরোপ করা হয়েছে, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে।
এল নিনো আবহাওয়া প্রভাবে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পানামা খাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন খরচ এবং শিপিং কার্যক্রমে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, এই সপ্তাহ থেকে খালে প্রতিদিন চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে দৈনিক চল্লিশটি জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে তা কমিয়ে চৌত্রিশটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং আগামী পনেরো সেপ্টেম্বর থেকে এই কোটা আরও কমিয়ে বত্রিশটিতে নামানো হবে।
মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় চৌত্রিশ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা খালের জলাধারগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ শতাংশ পরিচালিত হয় এই পানামা খালের মাধ্যমে, যার প্রায় সত্তর শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। গত বছর এই খালের মধ্য দিয়ে দুইশো সত্তর বিলিয়ন ডলার মূল্যের কার্গো পণ্য পরিবাহিত হয়েছিল।
তবে চলতি বছর হরমুজ সংকটের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন দেশ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে, যা পানামা খালের ওপর অতিরিক্ত ট্রাফিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খালের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ট্রানজিট স্লটের জন্য নিলামের দরও আকাশচুম্বী হয়েছে। সম্প্রতি একটি দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ খালটি অতিক্রম করার জন্য রেকর্ড পাঁচ দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার ফি প্রদান করেছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বিশ্লেষক নীলস রাসমুসেন সতর্ক করে বলেছেন যে এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপের মতো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হবে।
