বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান সংঘাত, উপসাগরে তেল দূষণের ঝুঁকি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান সংঘাত, উপসাগরে তেল দূষণের ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের জলসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে উভয়পক্ষই তেল ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে পারস্য উপসাগরে ভয়াবহ তেল দূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবাহিত হয়। এই জলসীমায় চলমান ট্যাংকার হামলার কারণে বড় ধরনের জাহাজডুবি বা তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে। সামুদ্রিক ট্রাফিক ডেটা অনুযায়ী, বর্তমানে ডজন ডজন ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্যাংকার তেল বহন করছে, যার বিশাল ভাণ্ডার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে ওমান উপকূলের কাছে তেল চুইয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় উপকূলীয় এলাকার বিস্তৃত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাগরের তলদেশের প্রবাল প্রাচীর, ম্যানগ্রোভ বন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী দূষণের শিকার হয়ে আসছে এবং বর্তমান সংঘাত এই চাপকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের সুপেয় পানির চাহিদার বড় অংশের জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলসহ পুরো উপসাগরীয় তীরবর্তী এলাকায় লাখ লাখ মানুষ বসবাস করে এবং এই প্ল্যান্টগুলো সরাসরি সাগরের পানির ওপর নির্ভরশীল। তেল দূষণের কারণে যদি এই জল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে গোটা অঞ্চলের পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

banner
Link copied!