যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি পুঁজিবাজারের সবকটি গত মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের আধিক্যের কারণে নাসডাক কম্পোজিট সূচক সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস বা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক সামান্য শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ওপরে উঠেছে।
প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সাতটি কোম্পানির মধ্যে পাঁচটিই লাভবান হয়েছে। এর মধ্যে টেসলার শেয়ারের মূল্য সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া অ্যামাজনের শেয়ারের মূল্য ১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের শেয়ারের মূল্য যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৯৩ এবং শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া মেটার ইক্যুইটিতে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর তাদের শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মেটার শেয়ারের মূল্য ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মাইক্রোসফটের শেয়ারের মূল্য শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কোরউইভ ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইস ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের এই উত্থানের প্রভাব বুধবার এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতেও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষ করেছে এবং পুরো অঞ্চলের বাজারগুলোর মধ্যে তারা শীর্ষে ছিল।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের তৃতীয় প্রান্তিকের দারুণ ব্যবসায়িক ফলাফলের প্রভাবেই দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে এই উল্লম্ফন ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অপারেটিং বা পরিচলন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার কোটি ওনে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬২ শমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সমান। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের মূল্য ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপানের নিকেই ২২৫ সূচক ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, তাইওয়ানের টিএইআইইএক্স সূচক ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লন্ডনের এজে বেল প্রতিষ্ঠানের বাজার বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ সাংবাদিকদের জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারের এই ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সহজে কমছে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই শেয়ারগুলো বাজারের মনোভাবের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
কোটসওয়ার্থ আরও জানান, এটি নতুন কোনো উত্থানের শুরু নাকি কেবল সাময়িক স্বস্তি, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের সুফল মিলছে কি না, তা যাচাই করতে বিনিয়োগকারীরা মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও অ্যাপলের আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এদিকে বুধবার এশিয়ার বাজার খোলার সময় তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৫ ডলারে এসে ঠেকেছে।
