সৌদি আরবের মন্ত্রী পরিষদ মঙ্গলবার নতুন একটি বাণিজ্যিক লেনদেন আইন অনুমোদন করেছে। এর ফলে এখন থেকে মাত্র পনেরো বছর বয়সি নাগরিকরাও ব্যবসায় অংশ নিতে পারবে।
ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদ এই আইনটি অনুমোদন করে। এতে সাতাশটি অনুচ্ছেদের ২৭০টি ধারা রয়েছে। মূলত তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থনীতিতে যুক্ত করা এবং আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মাজেদ আল কাসাবি জানান, এই আইনটি বাণিজ্যিক বিক্রি, সরবরাহ চুক্তি, দালালি এবং বাণিজ্যিক এজেন্সি চুক্তিগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে। দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এই আইনটি দেওয়ানি লেনদেন আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কাঠামোর আওতায় রয়েছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্যবসায়ীর দায়িত্ব, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হিসাবের খাতা, চুক্তি এবং প্রমিজরি নোট ও চেকের মতো বাণিজ্যিক দলিলপত্র। নতুন এই আইনটি বাণিজ্য আইন, negotiable instruments আইন এবং বাণিজ্যিক বই সংক্রান্ত তিনটি পুরোনো আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে।
আইনটির আরেকটি মূল লক্ষ্য হলো সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগীদের জন্য ক্ষতিকর এমন অপকৌশল রোধ করা। কোনো ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা আদালতে গিয়ে ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধের আদেশ চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করার আইনি অধিকার পাবে।
নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ব্যবসায়ীকে হিসাবের খাতা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। হিসাবের খাতা কাগজ বা ডিজিটাল মাধ্যমে রাখা যাবে। ভাষা হিসেবে আরবি বাধ্যতামূলক হলেও এর পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষাও ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই প্রথম বাণিজ্যিক বিক্রি, সরবরাহ চুক্তি, বাণিজ্যিক এজেন্সি এবং দালালি চুক্তির বিষয়গুলোকে একটিমাত্র আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হলো।
সরকারি গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পর আইনটি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আরও বেশি আইনি সুরক্ষা পাবেন।
আইনজীবী ও বাণিজ্যিক আইনের অধ্যাপক ওসামা বিন ঘানেম আল ওবাইদি বলেন, মন্ত্রী পরিষদের এই সিদ্ধান্ত সৌদি অর্থনৈতিক আইন আধুনিকায়নের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পনেরো বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়ায় তরুণরা খুব কম বয়সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
আল ওবাইদি আরও বলেন, এই আইন যে বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সৌদি অর্থনীতির প্রতিযোগিতক্ষমতা বাড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং বাণিজ্যিক ঝুঁকি কমিয়ে এটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ তানিয়া বিনতে আব্দুল্লাহ আল খিয়াল জানান, স্পষ্ট নিয়মের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অধিকার সহজে বুঝতে পারবে এবং বিরোধ এড়াতে পারবে। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই আইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন যা মূলত নতুন উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য এনে দেয়।
আল খিয়াল বলেন, ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরালো করতে এই আইনটি দারুণভাবে সহায়তা করবে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের ছয় মাস পর আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
