বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ভারতীয় ও তুর্কি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ভারতীয় ও তুর্কি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চণ্ডীগড় থেকে সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জাসপ্রীত প্রীতি শহীদ এই অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন।

ওই দম্পতির ব্যবসা পরিচালনাকারী আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার সঙ্গে যুক্ত নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই জুটি লাওস, এসোয়াতিনী ও গায়ানার মতো দেশগুলোর মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের মিথ্যা পরিচয় দিত।

তদন্তকারীরা দেখতে পেয়েছেন, এই নেটওয়ার্কটি জাল পতাকা ও সনদ ইস্যু করত, যা ব্যবহার করে ইরানি তেল বহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকারগুলো চলাচল অব্যাহত রাখত। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে পরিচালিত জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই অবৈধ কার্যক্রমটি কমপক্ষে ২০১৪ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এর জন্য সরকারি সামুদ্রিক নিবন্ধনের অনুকরণে তৈরি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হতো। অর্থ মন্ত্রণালয় তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস নামের একটি কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তুর্কি এই প্রতিষ্ঠানটি তুরস্কে পরিচালিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি এয়ারলাইনস যেমন সাহা এয়ারলাইনস ও ইরান এয়ার ট্যুরের বিমানগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রদান করত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস ভুল পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে জড়িত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানকে যারা সহায়তা প্রদান করবে, ওয়াশিংটন তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে চিহ্নিত পক্ষগুলোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে এবং সাধারণত মার্কিনিদের তাদের সঙ্গে ব্যবসা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নামক উদ্যোগের একটি অংশ, যার লক্ষ্য সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ইরান যেসব পেট্রোলিয়াম রাজস্ব ব্যবহার করে তা বন্ধ করা। মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে যে এই অভিযানের ফলে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পরপরই এই ঘোষণাটি এল, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।

banner
Link copied!