রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

মার্কিন অর্থনীতিতে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি: যুদ্ধের চাপে ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

মার্কিন অর্থনীতিতে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি: যুদ্ধের চাপে ট্রাম্প

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অর্থনীতি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে ২ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে যা অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির খবরের উল্টো পিঠে রয়েছে সাধারণ আমেরিকানদের যাপিত জীবনের সংগ্রাম। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে পদার্পণ করায় বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা ধীর হলেও বছরের শুরুতে তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ এই প্রবৃদ্ধিকে সচল রেখেছে। আইএনজি-র প্রধান আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি মনে করেন আমেরিকানদের ব্যক্তিগত খরচ বা ভোগ কমে গেলেও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ এখন অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এটি ট্রাম্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হলেও যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা সেই স্বস্তিকে ফিকে করে দিচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে হামলার পর পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নামে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও বর্তমানে এটি ১১১ ডলারের আশেপাশে থিতু হয়েছে তবে যুদ্ধের আগে এই দাম ছিল মাত্র ৭৩ ডলার। জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় দেখেই তাদের রায় দেবেন। ট্রাম্প প্রশাসন তার শুল্ক নীতি এবং অর্থনৈতিক কৌশলের সুফল দাবি করলেও সাধারণ মানুষ গ্যাস স্টেশনে তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষুব্ধ। সত্তর দশকের তেল সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে বড় বাধা হতে পারে। প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভোটারদের মনে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা নিরসন করাই এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন এবারের প্রবৃদ্ধি মূলত এআই এবং উচ্চ প্রযুক্তির খাতের ওপর নির্ভরশীল যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার ফলে মার্কিন মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে টান পড়েছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানো না গেলে কেবল ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করা ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। নভেম্বরের আগেই এই সংকট সমাধানের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে।

banner
Link copied!