শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালীতে গোলাগুলি: তেলের দাম ১০০ ডলার পার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

হরমুজ প্রণালীতে গোলাগুলি: তেলের দাম ১০০ ডলার পার

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছে যায়। তবে পরবর্তীতে দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেলের বাজার ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ঘরে ছিল। অর্থাৎ গত কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩০ ডলার বা তার বেশি বেড়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি হামলার শিকার হয়। পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী এটি একটি উসকানিহীন হামলা ছিল এবং এর জবাবে মার্কিন তিনটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন যে ইরানি বাহিনীর বেশ কয়েকটি ছোট স্পিডবোট এই সংঘর্ষে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে এই হামলাকে একটি ‘লাভ ট্যাপ’ বা হালকা আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এখনও মনে করেন যে দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছে। তেহরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানি বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আক্রমণ চালায় এবং সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধন করে। যদিও ওয়াশিংটন তাদের জাহাজের কোনো ধরনের ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে। ইরান বর্তমানে দাবি করছে যে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালীর এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে তেলের দামের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক হুইফেং চ্যাংয়ের মতে তেল ব্যবসায়ীরা বর্তমান এই যুদ্ধবিরতিকে অত্যন্ত নাজুক হিসেবে দেখছেন। ফলে ছোটখাটো কোনো সংঘর্ষের খবর এলেই বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আলোচনা খুব ভালোভাবে চলছে। তিনি তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে ইরান যদি দ্রুত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে তবে তাদের সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের মতে ইরান নিজেই এখন এই চুক্তিটি সবচেয়ে বেশি চাচ্ছে। উল্লেখ্য যে পাকিস্তান বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীর এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে রণক্ষেত্রে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

banner
Link copied!