দেশের বাজারে আবারও মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় পৌঁছেছে যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দরের একটি। আজ শনিবার থেকেই সারাদেশে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে বলে সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়। সংগঠনটি বলছে স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের সরবরাহ ও মূল্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই সমন্বয় অপরিহার্য ছিল। নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকায় দেখা গেছে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১৩ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায়।
স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় এই সময়ের মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেই বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাজুস। ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ৬ মে সবশেষবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের কেনাকাটায় বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থাকলেও বাজুস মূলত স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দরের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত দাম বাড়ায় অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এখন অলংকার কেনা থেকে পিছিয়ে আসছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব পরোক্ষভাবে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে প্রতিফলন ঘটায়। তবে বাজুসের পক্ষ থেকে বারবারই স্থানীয় বাজারের পাকা স্বর্ণের উচ্চমূল্যকে দায়ী করা হচ্ছে। জুয়েলারি শিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করেন দাম এভাবে বাড়তে থাকলে অলংকারের কারিগর ও ছোট ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়তে পারেন। কারণ উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা নির্ভর করবে স্থানীয় সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। আপাতত নতুন এই বর্ধিত দরেই ক্রেতাদের স্বর্ণ সংগ্রহ করতে হবে।
