শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে দিনের শেষভাগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির আশা তৈরি হওয়ায় দাম কিছুটা কমে স্থিতিশীল হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও আলোচনার এই দোলাচলের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

শুক্রবার দিনশেষে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.২৩ ডলার বা ১.২৩ শতাংশ বেড়ে ১০১.২৯ ডলারে স্থির হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে এই দামের উল্লম্ফন ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.৬১ ডলার বা ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। তেলের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক এই সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগেইন ক্যাপিটাল’-এর অংশীদার জন কিলডাফ জানান, তেলের বাজারে বর্তমানে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা হয়তো একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের খুব কাছে আছি, অথবা নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। বাজারে ব্যবসায়ীরা অনেকটা টেনিস বলের মতো এদিক-সেদিক ছুটছেন।

তবে তেলের দাম কিছুটা থিতু হওয়ার পেছনে কাজ করছে একটি নতুন আশাবাদ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে যা হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করবে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করে।

বর্তমানে তেলের বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বড় বড় সব বিনিয়োগকারী সংস্থা। চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনে। আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি আলোচনা সফল হয় তবে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যথায় বাজার আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

banner
Link copied!