জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে বিশ্বজুড়ে প্রায় সব শিশুই অন্তত একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে, আল জাজিরা খবরটি নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন জরুরি ভিত্তিতে হ্রাস করা না হলে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটবে। জলবায়ু সংকটে শিশু স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক বেঁচে থাকার অধিকার এখন এক অভূতপূর্ব ও বহুমুখী হুমকির মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক এই সংকট কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্বন নির্গমন কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এক বিবৃতিতে বলেছেন যে তীব্র দাবদাহ, দাবানল, খরা এবং আকস্মিক বন্যার কারণে বিশ্বজুড়ে बच्चोंের জীবন ক্রমাগত বিপর্যস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু তাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্তত তিনটি ওভারল্যাপিং বা একটির ওপর আরেকটি চেপে বসা জলবায়ু হুমকির মধ্যে বসবাস করছে। এই ধরনের ভয়াবহ পরিবেশগত পরিবর্তন শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। জলবায়ু সংকটে শিশু সুরক্ষায় এখনই বিশ্বনেতাদের এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮০ কোটি শিশু মারাত্মক খরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একই সাথে আরও প্রায় ১২০ কোটি শিশু তীব্র দাবদাহের সংস্পর্শে আসছে যা বিশ্বের সামগ্রিক পানি চক্রের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে গত মে মাসে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো রেকর্ড সৃষ্টিকারী দাবদাহের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে যা সাধারণত গ্রীষ্মকালের আগে প্রত্যাশিত ছিল না। যা কম স্পষ্ট তা হলো দীর্ঘমেয়াদে এই চরম আবহাওয়া বিশ্বের অনুন্নত অঞ্চলের ভঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থাকে কতটা গভীরভাবে অচল করে দেবে।
বায়ুদূষণের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শিশুই কোনো না কোনোভাবে দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে আসছে। প্রায় ১০০ কোটি শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ম্যালেরিয়া রোগের সংক্রমণের মুখে অবস্থান করছে। পূর্বের দাবদাহ ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো এই রোগের বিস্তারকে আরও ت্বরান্বিত করছে যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উম্মাহ কণ্ঠের পাঠকদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক প্রভাব এবং মুসলিম বিশ্বের শিশুদের ওপর এর সুনির্দিষ্ট পরিণতি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।
এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো জানিয়েছে। অনুন্নত অবকাঠামো এবং অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে এই অঞ্চলের শিশুরা তীব্র পানি সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে ভুগছে। ইউনিসেফ তাদের প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলেছে যে এই শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিকল্প নেই।
