শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কঙ্গোয় ইবোলা ঝুঁকি ‍‍`খুব উচ্চ‍‍` ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৩, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

কঙ্গোয় ইবোলা ঝুঁকি ‍‍`খুব উচ্চ‍‍` ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় জাতীয় পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ‍‍`উচ্চ‍‍` থেকে বাড়িয়ে ‍‍`খুব উচ্চ‍‍` করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন সতর্কতা জারি করে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, কঙ্গোর এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্তরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে এখনো এর ঝুঁকি বেশ কম। ইবোলার এই বিরল রূপটি ‍‍`বুন্দিবুগিও‍‍` নামে পরিচিত, যা আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরই প্রাণ কেড়ে নেয় এবং এর কোনো প্রমাণিত প্রতিষেধক নেই।কঙ্গোয় এ পর্যন্ত প্রায় ৭সাশ ৫০ জন সম্ভাব্য আক্রান্তের পাশাপাশি ১৭৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে টেড্রোস স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত কঙ্গোয় অফিশিয়ালি ৮২ জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও কঙ্গো থেকে ভ্রমণকারী দুজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং সেখানে একজন মারা গেছেন। তবে উগandar পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি। সাধারণত বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় বা আক্রান্ত পশুর মাংসের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

এদিকে এই মারাত্মক সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি নতুন টিকা উদ্ভাবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন, যা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে অক্সফোর্ডে পশুদেহে এর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই টিকা সফল প্রমাণিত হলে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট এটি গণহারে বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এর পাশাপাশি আরেকটি পরীক্ষামূলক টিকা নিয়েও সমান্তরালভাবে কাজ চলছে, যা তৈরি হতে প্রায় ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এই দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক টিকাকে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি বর্তমানে সাধারণ জাইর প্রজাতির ইবোলার জন্য ব্যবহৃত সফল ‍‍`এরভেবো‍‍` টিকার সমতুল্য হতে পারে। কঙ্গোয় বারবার ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

banner
Link copied!