সুদানে আনুমানিক ১ কোটি ৫৪ লাখ মানুষের জরুরি আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী প্রয়োজন। গত শুক্রবার জাতিসংঘের দুটি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে যে, তহবিলের তীব্র ঘাটতির কারণে কোটি কোটি মানুষের সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে এই সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তারা জানিয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলোর কাছে বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের জন্য সহায়তা অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ৯ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।
সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে জরুরি বাসস্থানের মজুত আশঙ্কাজনক হারে ফুরিয়ে আসছে। তাৎক্ষণিক তহবিল না পেলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো চরম আবহাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং সহিংসতা ও শোষণের উচ্চ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সুদান বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংকটের মুখোমুখি। দেশের ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ এবং সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৬ লাখের বেশি ব্যক্তি।
এর বাইরেও ৫০ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের আদি নিবাসে ফিরে গেছেন। তবে এই প্রত্যাবাসনকারীদের অনেকেই দেখতে পেয়েছেন যে তাদের ঘরবাড়ি, স্থানীয় অবকাঠামো এবং জরুরি সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
চলমান লড়াই, নিরাপত্তাহীনতা এবং ড্রোন হামলা মানুষের বাস্তুচ্যুতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে মানবিক কার্যক্রমের পথ সংকুচিত করছে।
সাহায্যপ্রার্থী মোট ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মধ্যে ২০ কোটি মানুষকে সহায়তার জন্য চলতি বছর সুদানের মানবিক সাড়া প্রদান পরিকল্পনায় ২৯০ কোটি ডলার প্রয়োজন। তবে সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় এই তহবিলের মাত্র ৪৭ শতাংশ পেয়েছে।
সংস্থা দুটি দ্রুত আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জরুরি বাসস্থানের জোগান সচল রাখতে এই সম্পদ অত্যন্ত জরুরি।
সুদান সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটিতে চলছে। এই যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন কোটি কোটি মানুষ।
