মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতি সংকট

সংঘর্ষের জেরে আগস্ট থেকে ইয়েমেনে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

সংঘর্ষের জেরে আগস্ট থেকে ইয়েমেনে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় গত আগস্ট মাস থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের প্রকাশিত আগের প্রায় দুই লাখ ১৩ হাজার মানুষের পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে নতুন এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে।

এই বাস্তুচ্যুতি সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাইজ অঞ্চল। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মোট স্থানান্তরিত মানুষের ৭৬ শতাংশই এই এলাকা ছেড়ে গেছে এবং নতুন বাস্তুচ্যুতদের ৫২ শতাংশের আশ্রয়স্থলও এই তাইজ।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের লাহিাজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে নতুন বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর আদেনে এই হার ১৩ শতাংশ।

সহিংসতার বিস্তারিত তুলে ধরে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। তাইজে আবাসিক এলাকা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে গোলাবর্ষণ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা এবং যাতায়াতের ওপর নানা বিধিনিষেধের কারণে মানবিক সহায়তা ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও আদেনে বেশ কিছু বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর আশপাশের এলাকাও রয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও তাদের অংশীদাররা আবিয়ান, আদেন, মারিব, লাহিাজ এবং তাইজ অঞ্চলের ১২ হাজার ২৮৩টি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৫০টি পরিবারের মাথাগোঁজার মতো কোনো স্থায়ী ঠাঁই ছিল না।

আশ্রয়ণ খাতের অংশীদাররা এ পর্যন্ত তিন হাজার ১৬৬টি পরিবারকে সহায়তা দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে সামগ্রিক মানবিক কার্যক্রমে চরম অর্থসংকটের কারণে এখনও প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ পরিবার আশ্রয়ের সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত ১১ অক্টোবর লাহিাজ প্রদেশের খারাজ শরণার্থী শিবিরের স্কুলগুলো আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই শিবিরে ৯ হাজার ৪৯০ জন শরণার্থী বসবাস করছেন। এই শিবিরে যাতায়াত এবং ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা রাজধানী সানা এবং আরও কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই মূলত ইয়েমেন দীর্ঘ সংঘাতে নিমজ্জিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে হুথিদের হাতে। অন্যদিকে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা আদেনসহ দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

banner
Link copied!