ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শব্দওয়া প্রদেশের একটি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হুথিদের চালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার এই হতাহতের নতুন তথ্য সামনে আসে।
এই ভয়াবহ হামলার পর আরও চৌদ্দজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শবওয়ার গভর্নর আওয়াদ বিন আল ওয়াজির আহতদের চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত এক সভায় এই হালনাগাদ তথ্য ঘোষণা করেন।
ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গভর্নর বিন আল ওয়াজির এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তোলেন।
আহতদের স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার শব্দওয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায় যে এই হামলায় অন্তত তিপ্পান্ন জন নিহত এবং দুইশ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
শহীদ আহমেদ আল সুলাইমানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নতুন সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন যখন এই হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান যে হুথিরা ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
নিরাপত্তা ও পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের কাজে নিয়মিতভাবে ওই কেন্দ্রটি ব্যবহার করা হতো।
তবে এই হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের অনুগত বাহিনী এবং হুথি আন্দোলনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই এই হামলা ঘটল।
স্বীকৃত এই সরকারকে সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
উল্লেখ্য যে ২০১৪ সাল থেকেই সংঘাত জর্জরিত হয়ে আছে ইয়েমেন।
ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
