তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ইস্তাম্বুলে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকে তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিয়ে গঠিত আর-৪ কৌশলের প্রতিনিধিরা এবং যুক্তরাজ্যের জার্মানির ও ফ্রান্সের ইউরোপীয় ই-থ্রি জোটের মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।
তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ডেভিড ওয়েডফুল যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং ফ্রেঞ্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল ব্যারো অংশ নিচ্ছেন।
তাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। সাতটি দেশের এই যৌথ জোটের বৈঠকটি সম্পূর্ণভাবে তুরস্কের নিজস্ব উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য সূচিতে রয়েছে ফিলিস্তিন সংকট হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি ইয়েমেনের ঘটনাবলি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এই দুই জোটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠকে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন যে আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই প্রধানত নিতে হবে। আঞ্চলিক মালিকানার ভিত্তিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ওপর আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
বর্তমান বিরোধগুলো যেন একে অপরকে আরও উসকে না দেয় সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দেবেন ফিদান। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মূল কারণগুলো তুলে ধরে তিনি বলবেন যে কোনো সংঘাত যেন নতুন কোনো এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা যেন বৃহত্তর অস্থিতিশীলতায় রূপ না নেয়।
বৈঠকে ফিদান তুলে ধরবেন যে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী অবৈধ দখলদারিত্বই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মূল কারণ। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি ইসরায়েলের অনমনীয় অবস্থান এবং আঞ্চলিক আগ্রাসনকেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রধান অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করবেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করবেন যে যেকোনো বিরোধ কেবল সামরিক পন্থার বদলে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। সৌদি আরবে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানাবেন ফিদান।
সৌদির নিরাপত্তা রক্ষায় তুরস্কের অটল সমর্থনের কথা তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত আগস্টে তুরস্ক সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিও তিনি তুলে ধরবেন।
বৈঠকে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে যেখানে আর-৪ ও ই-থ্রিভুক্ত দেশগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করবেন ফিদান। সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের অব্যাহত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিও তিনি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।
কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যাতে আর না ছড়ায় এবং বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি রোধ করা যায়, সে বিষয়ে আঙ্কারার সতর্কবার্তা ও প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সংলাপ জোরদার করার লক্ষ্যে তুরস্ক মিশর পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে আর-৪ কৌশল গঠন করেছিল। অন্যদিকে জার্মানি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে নিয়ে গঠিত ই-থ্রি জোট ২০০৩ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়ে পরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হয়েছে।
