নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সহায়তা করতে প্রায় ২০০ জন সালভাদরীয় সেনা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পর্তো প্রিন্সে এসে পৌঁছান। সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স জানিয়েছে, রাজধানী বহির্ভুত প্লেইন দু কুল দে সাক এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে এই সেনাদলটি সেখানে পৌঁছেছে।
হাইতির জাতীয় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ করছে এই সৈন্যরা। শান্তো ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের চলমান অভিযানস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।
গত রবিবার এল সালভাদরের চার বিমানপ্রযুক্তিবিদ নিখোঁজ হন। পর্তো প্রিন্সের নিকটবর্তী ক্রয়া দে বু ক্যুম এলাকার শান্তোতে তাদের বর্মবেষ্টিত গাড়িতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পাশাপাশি বিস্ফোরক ব্যবহার করে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ওই প্রযুক্তিবিদরা বের হতে পারলেও এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
হাইতির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ওই চারজনকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
গত বুধবার এক সামরিক উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা দেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে। নিখোঁজ চারজনকে অক্ষত অবস্থায় জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি এবং কোনো ক্ষতি করা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোনো যোদ্ধা নন, বরং বিমানপ্রযুক্তিবিদ। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল চিকিৎসাজনিত কারণে জরুরি স্থানান্তর বা এভাকুয়েশন পরিচালনা করা।
তার এই সতর্কবার্তার পর প্রতিক্রিয়া জানান উইলসন জোসেফ, যিনি লানমো সান জু নামে পরিচিত। তিনি ওই এলাকায় সক্রিয় হাইতির অপরাধচক্র ফোর হান্ড্রেড মাওয়োজোর নেতৃত্ব দেন। এই চক্রটি ভিভ আনসানম গ্যাং জোটের অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে প্রেসিডেন্ট বুকেলেকে চ্যালেঞ্জ জানান জোসেফ। তিনি বলেন, তিনি পালাবেন না এবং সালভাদরীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই অপহরণের দায় স্বীকার করেনি।
