রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেনি সংঘাত বৃদ্ধি

মক্কার কাছে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত: সৌদি আরব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

মক্কার কাছে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত: সৌদি আরব

সপ্তাহান্তে ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, জেদ্দা, তায়েফ, রাবিগ এবং মক্কা প্রদেশের ওয়াদি আল মুগাম্মাসে ভূপাতিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো এসে পড়ে।

মক্কা ও মদিনার দিকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে দেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এসব হামলার সময় রাজধানী রিয়াদের ওপর দিয়ে একটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়।

রোববার দুপুরের মধ্যে জোট বাহিনী খামিস মুশাইতকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে। একই সময়ে তায়েফ ও জাজানে বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন। সব মিলিয়ে দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে জোট বাহিনী।

পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর এটি মারাত্মক লঙ্ঘন বলে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপস্রাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল বুদাইবি। তিনি এটিকে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতির প্রতি উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেন। কাবা শরিফ ও মসজিদুল হারাম অবস্থিত মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

দেশটির বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহীরা। রিয়াদ ঘোষণা করেছে যে, রোববার থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং টার্মিনাল ১ থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হবে। গত ১০ অক্টোবর ১৩ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক আহতের ঘটনার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল।

রোববার ভোরে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান যে, সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এই স্থাপনাটি নিরাপদ নয়। এছাড়া বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের উদ্দেশ্যে এই সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সৌদি তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাতটি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন তিনি।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুথি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এই ঘটনায় সরকার পালিয়ে দক্ষিণে যেতে বাধ্য হয়। তেহরান থেকে হুথি প্রতিনিধি দলের আগমন ঠেকাতে সরকারি বাহিনী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আক্রমণ চালানোর পর লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা একটি আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে মোচা শহরসহ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দখল করে নেয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য গত ৫ অক্টোবর ফজর আল ইয়ামান বা ইয়েমেনের ভোর অভিযান শুরু করে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হুথি অবস্থানগুলোতে ৭৩৬টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে রোববার ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে। এসব অভিযানে ৩০০ জন নিষ্ক্রিয় হয়েছে এবং ৬৮টি সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে হুথি অবরোধের মুখে থাকা তাইজ শহরে তীব্র মানবিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের জন্য রাসদ অর্গানাইজেশন। এই মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের সংকটের কারণে প্রায় ১,১১০ জন কিডনি রোগী মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। গত ৪ অক্টোবর অবরোধ আরোপের পর থেকে শহরটিতে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি ডায়ালাইসিস সেশন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা ১৯২ জন রোগী এবং ইনকিউবেটরে থাকা ১৫৪ জন শিশুর জন্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী প্রয়োজন।

banner
Link copied!