দক্ষিণ উপকূলের অদূরে এক সফল উদ্ধার অভিযান শেষে চল্লিশজন ইরানি নাবিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকালে একটি বিমানে ওঠার আগে এই ৪০ জন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
গলে থেকে প্রায় চব্বিশ নটিক্যাল মাইল দূরে বাণিজ্যিক জাহাজে অবস্থানকালে তাদের স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা জানিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। কলম্বোর ইরানি দূতাবাস এই সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে এবং শ্রীলঙ্কান কর্মকর্তারা গলে বন্দরের মাধ্যমে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ গণমাধ্যমের কাছে এই প্রত্যাবাসনের বিবরণ নিশ্চিত করেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুষারা রদ্রিগো জানান, কর্মকর্তারা তাদের মানবিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
উদ্ধার হওয়া এই নাবিকদের পাশাপশি প্রায় এক ডজন খালি ইরানি তেল ট্যাংকার এখনো গলের উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে এই জাহাজগুলো নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারছে না।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটকা পড়া এই জাহাজগুলো দেশটির বারো নটিক্যাল মাইলের জলসীমার বাইরে আন্তর্জাতিক সীমানায় অবস্থান করছে। স্থির হয়ে থাকা এই ট্যাংকারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য দেশটির সেনাবাহিনী নজরদারি বিমান ও নৌবাহিনীর টহল নৌকা মোতায়েন করেছে।
গত মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া একটি হামলার ঘটনার ধারাবাহিকতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনার ওপর ওই হামলায় ১০৪ জন ক্রু নিহত এবং ৩২ জন নাবিক আহত হন বলে জানায় তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানায়, যুদ্ধজাহাজটি ভারতে অনুষ্ঠিত মিলন পিস ২০২৬ নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে গত ৪ মার্চ হামলার শিকার হয়। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করে যে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো দিয়ে জাহাজটিতে আঘাত করেছিল।
গলের কাছাকাছি অবস্থানরত ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে জরুরি বার্তা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ একটি যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং ৩২ জন আহত নাবিককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।
