বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হরমোজ প্রণালীতে উত্তেজনা

আইনি ব্যবস্থার হুমকি: দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির জাহাজ নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

আইনি ব্যবস্থার হুমকি: দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির জাহাজ নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি

হরমোজ প্রণালীতে চলাচলকারী দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানি সিনোকরের সব জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার ফারসি উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে।

তেহরানের উদ্যোগে এই জলপথে যাতায়াতের অনুমতি ব্যবস্থাপনার জন্য সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় ওই কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হবে।

গত তিন মাসে এই প্রণালীতে সবচেয়ে বেশিবার চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে সিনোকরের জাহাজগুলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই এই জলপথে জাহাজ চলাচল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে তেহরান।

ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আরব উপদ্বীপের উৎপাদকদের কাছ থেকে এশীয় ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাতে এই ট্রানজিট সীমিত করা হয়েছে।

ফারসি উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে সিনোকরের অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে প্রকাশিত ইরানের একটি তালিকায় সিনোকরের নাম ছিল। প্রণালীতে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৫টি ট্যাংকার নিয়ে ওই তালিকা করা হয়েছিল।

তবে কোরিয়া শিপওয়ানার্স অ্যাসোসিয়েশন গত বুধবার জানিয়েছে, যেসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে সেগুলো সিনোকরের মালিকানাধীন নয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই জাহাজগুলো একটি বিদেশি তেল কোম্পানির কাছে সাব-চার্টার করা ছিল।

এগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো নাবিক কর্মরত ছিলেন না, সম্পূর্ণ বিদেশি কর্মীরা এগুলো পরিচালনা করতেন।

সিনোকরের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন।

আইনি ব্যবস্থার এই পৃথক সতর্কবার্তার বিষয়ে আগে থেকে কোনো নোটিশ পায়নি সিনোকর এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা।

আঞ্চলিক এসব হামলার জবাবে প্রণালীর ভেতরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকান এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে মূলত বন্ধ রয়েছে ইরানের রপ্তানি বাণিজ্য।

নিজেদের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত পেট্রোলিয়াম রপ্তানি রক্ষার্থে শিপিং পদ্ধতি বদলে ফেলেছে উপসাগরীয় তেল উৎপাদকরা।

প্রণালী পারাপারের সময় শনাক্ত এড়াতে বর্তমানে ডার্ক ট্রানজিটের ওপর নির্ভর করছে উৎপাদকরা, যার মাধ্যমে ট্যাংকারগুলোর ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা হয়।

banner
Link copied!